নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বিনপুরে বালি ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। গত সোমবার রাত ২টো নাগাদ বেতকুন্ডি এলাকায় মাথায় চোট পাওয়া অবস্থায় রাস্তা থেকে সৌমেন মাইতি নামে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বুধবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা বিনপুর থানায় মৌখিক অভিযোগ জানান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বালি ব্যবসার গোলমালের জেরে খুন করা হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌমেন দীর্ঘদিন বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিনপুরে বালি খাদানের ব্যবসা নিয়ে কিছুদিন ধরেই অশান্তি চলছে। কংসাবতী নদী থেকে বেআইনি বালি তোলার অভিযোগে গ্ৰামবাসীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিস নামানো হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে বেআইনি বালি তোলার অভিযোগ করেছিলেন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে সৌমেন বালি ব্যবসায় লোকসানের মুখে পড়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় বন্ধু অসীম মাহাতর সঙ্গে এক পরিচিতের বিয়েবাড়ি গিয়েছিলেন। রাত ২টো নাগাদ দু’জনে নিজেদের বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। দহিজুড়ির বেতকুন্ডি এলাকার রাস্তার পাশে মাথায় চোট পাওয়া অবস্থায় সৌমেনকে উদ্ধার করা হয়। অসীম বলেন, বিয়েবাড়ি থেকে দু’জনে আলাদা বাইকে বের হয়েছিলাম। আমি বাইকে বেশ কিছুটা পথ এগিয়ে গিয়েছিলাম। সৌমেনকে পিছনে দেখতে না পেয়ে কিছুটা ফিরে যাই। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখি। সেইসময় একটা টোটো আসছিল। সেই টোটোয় করেই ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। ওর পরিচিতদের ফোন করে ঘটনার কথা জানাই।
মৃতের মামা সুদর্শন বেরা হাসপাতালের মর্গে দাঁড়িয়ে বলেন, ভোর ৪টের সময় খবর পেয়ে হাসপাতালে আমি ছুটে যাই। অসীম যেভাবে আমাদের ঘটনার কথা বলছে তাতে অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে। ২০১৯-’২০ সাল থেকে ব্যবসা করছে। ঝাড়গ্রামের সেবায়তন এলাকায় বাড়ি তৈরি করে স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে থাকত। কিছুদিন ধরেই বালি ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল। আমাকে আর্থিক সাহায্য করতে হচ্ছিল। মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলেই আমাদের মনে হচ্ছে। মৃত যুবকের বাবা কমল মাইতি বলেন, দহিজুড়ির স্থানীয় কয়েকজনের কাছে শুনলাম, ঘটনার সময় অন্ধকারে কয়েকজনকে তাঁরা ছুটে পালাতে দেখেছেন। গভীর রাতে হঠাৎ করে সেখানে টোটো চলে আসাও স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না। আমরা চাই পুলিস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। বিনপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা থানায় জানিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।