১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল। মস্কো থেকে প্রায় সাড়ে ৮০০ কিলোমিটার দূরে সারাটোভ এলাকার আকাশে চক্কর কাটছে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের একাধিক সেনা কপ্টার। সকলেই খুঁজছে একজনকে। তিনি যে সে ব্যক্তি নন। মানবজাতির প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সদ্য মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে ফিরেছেন। এর ঠিক ৭ বছর পরের ঘটনা। ১৯৬৮ সালের ২৭ মার্চ। সেদিনও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল। মস্কো থেকে কিছুটা দূরে সেদিনও রুশ সেনার উদ্ধারকারী বিমান খুঁজছিল সেই পাইলটকে। পার্থক্য শুধু একটাই। প্রথম ঘটনায় জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল তাঁকে। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে মিলেছিল তাঁর মৃত্যুর খবর। তিনি ইউরি আলেক্সিভিচ গ্যাগারিন। তাঁর মৃত্যু আজও রহস্য হয়েই রয়ে গিয়েছে। সেদিন রেডিওতে গ্যাগারিনের মৃত্যুর খবর জানাতে গিয়ে বলা হয়েছিল, দুর্ঘটনার দিন সকালে প্রশিক্ষণের জন্য রুশ বায়ুসেনার চিকালোভস্কি ঘাঁটি থেকে মিগ-১৫ বিমান নিয়ে আকাশে উড়েছিলেন গ্যাগারিন। কিন্তু, কী কারণে সেই বিমান ভেঙে পড়েছিল, তা নিয়ে তদন্তে উঠে এসেছে বিভিন্ন তত্ত্ব। আসলে ১৯৬৮ সালে বিমানের ককপিটে পাইলটের কথোপকথন রেকর্ড করা হতো না। তবে এটুকু জানা যায়, খুব দ্রুতগতিতে মাটিতে আছড়ে পড়েছিল গ্যাগারিনের বিমান। অর্থাৎ, পাইলটেরা বিমানের ঘূর্ণন থামাতে পারেননি। ২০০৫ সালের এক রিপোর্টে আবার দাবি করা হয়, ভুলবশত হয়তো ওই বিমানের আগের পাইলট ‘কেবিন এয়ার ভেন্ট’ খুলে রেখেছিলেন। ফলে অক্সিজেনের অভাবের কারণে নিজেদের উড়ানে গ্যাগারিনরা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন। যার ফলে শেষ মুহূর্তে তাঁরা আর বিমান নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। অনেক রিপোর্টে আবার এই দুর্ঘটনার জন্য পাখির ধাক্কার কথা উল্লেখ করা হয়। এক উড়ান তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল। আর অন্য এক উড়ানেই থেমে যায় ইউরি গ্যাগারিনের জীবন।



