ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: অবশেষে স্বস্তি। পাঞ্জাব সরকারের আশ্বাসের পর শুক্রবার ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন মাটনের হোলসেল ডিলাররা। এর ফলে জম্মু-কাশ্মীরে মাংসের জোগানের ঘাটতি মিটবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে রেস্তরাঁয় ফের রোগান জোশ, রিস্তা, গুস্তাবা, দানিওয়াল কোরমা, তাবাক মাজের মতো সুস্বাদু পদের স্বাদ পাবেন পর্যটক, স্থানীয়রা। দু’সপ্তাহ আগে ধর্মঘট ডেকেছিলেন ডিলাররা। এর নেপথ্যে রয়েছে পাঞ্জাবের কর নীতি। ওই রাজ্য হয়ে যে গাড়িগুলি ভেড়া ও ছাগল নিয়ে কাশ্মীরে আসছে সেগুলির উপর অনুমোদনহীন কর চাপানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ ছিল, দিল্লি, হরিয়ানা, আম্বালা, রাজস্থান সহ উত্তর ভারতের যে যে গাড়ি পাঞ্জাব হয়ে আসছে, সেগুলি থেকে একাধিক জায়গায় বেআইনিভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই স্থানীয় মাটন ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (কেএমডিএ) জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে থেকে ভেড়া ও ছাগল আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাদের দাবি, দিল্লি-পাঞ্জাব জাতীয় সড়কের মাধোপুর ও শম্ভু চেকপয়েন্টে প্রত্যেকটি ট্রাকের থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আদায় করা হত। সব মিলিয়ে প্রতি বছর কর বাবদ ১৮ কোটি দিতে হয় বলে অভিযোগ। ধর্মঘটের জেরে মাথায় হাত পড়ে যায় রেস্তরাঁ মালিকদের। পর্যাপ্ত জোগানের অভাবে মেনু থেকে মাংসের একের পর এক পদ কমতে শুরু করে। সমস্যার সমাধানে তৎপর হন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। চিঠি দিয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের হস্তক্ষেপের আরজি জানান তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে বুধবার থেকে পাঞ্জাব সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হোলসেল ডিলাররা। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে মিলল সমাধান সূত্র।



