


নয়াদিল্লি: সামনেই বকরি ইদ। তার আগে গোরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়ার দাবি তুলল একাধিক মুসলিম সংগঠন। দিন তিনেক আগেই জমিয়তে উলেমা-হিন্দের প্রধান মৌলনা আরশাদ মাদানি দাবি করেন, এমন সিদ্ধান্ত নিলে গোহত্যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক হিংসা এবং গণপিটুনির মতো ঘটনা বন্ধ হবে। পাশাপাশি সরকার কেন গোরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিচ্ছে না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। মাদানির দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশের একাধিক সংগঠন। ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশে ভোটের আগে মুসলিম সমাজের একাংশের এই দাবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মৌলনা শাহাবুদ্দিন রাজভী গোরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা নিয়ে মাদানির দাবিকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, এব্যাপারে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলা হবে। তার জন্য শীঘ্রই দিল্লিতে বৈঠকও ডাকা হবে। সেখানে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হবে। তাঁর মতে, গোরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিলে আইন তৈরি হবে। সেইসঙ্গে গোহত্যার নামে গণপিটুনির মতো ঘটনা বন্ধ হবে।
অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া কুরেশি জামাতের সভাপতি সিরাজ কুরেশিও একই মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে গোরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়া ব্যাপারে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোনো সরকারই এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মৌলনা ইয়াসুব আব্বাস বলেন, এব্যাপারে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। একদিকে কিছু রাজ্যে গোহত্যায় বাধা নেই। আবার কিছু রাজ্যে গোহত্যার নামে গণপিটুনিতে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে—এই দ্বিচারিতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের কার্যনির্বাহী সদস্য মৌলনা খালিদ রশিদ ফারাঙ্গি মাহালি বলেন, গোরু নিয়ে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগ জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়ে গোরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা উচিত। পাশাপাশি গোহত্যা নিয়ে গোটা দেশে একই আইন তৈরির পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।