নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সালকিয়ার কৈবর্ত্যপাড়া লেনের আবাসনে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই নাবালককে মঙ্গলবার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের নির্দেশে হোমে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আর্থিক লেনদেন নয়, বরং ব্যক্তিগত আক্রোশ ও দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার নেপথ্যে ব্ল্যাকমেলিংয়ের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সোমবার সকালে সালকিয়ার কৈবর্ত্যপাড়া লেনের ওই আবাসনের চারতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় দেবব্রত পালের রক্তাক্ত দেহ। সেই ফ্ল্যাট থেকেই দুই নাবালককে আটক করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই ফ্ল্যাট চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন আবাসনের সেক্রেটারির ছেলে। অন্যজন তার বন্ধু। জিজ্ঞাসাবাদে তারা খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সোমবার বিকেলে দু’জনকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (সিডব্লুসি) হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আবাসনের সেক্রেটারির নাবালক ছেলে আগে থেকেই তার এক বন্ধুকে ডেকে এনেছিল। সোমবার সকালে দু’জনে একসঙ্গে দেবব্রতবাবুর ফ্ল্যাটে যায়। সেখানে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে তাদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই নাবালকের পরিবারের সঙ্গে দেবব্রত পালের বিবাদ চলছিল। বিষয়টি জানার পর থেকেই নাবালকের মনে ক্ষোভ জমতে শুরু করে। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বন্ধুকে নিয়ে সে দেবব্রতের ফ্ল্যাটে গিয়ে ওই ঘটনা ঘটায় বলে পুলিশের ধারণা।
পুলিশের একটি সূত্র আরও জানিয়েছে, দেবব্রতর মোবাইল ফোনে এমন কিছু তথ্য বা বিষয় থাকতে পারে, যা নিয়ে সেক্রেটারির ছেলের সঙ্গে তার বচসা হয়। সেই ফোন নিয়ে টানাটানির সময় দু’জনে দেবব্রতবাবুকে ধাক্কা দিলে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। আচমকা পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত লাগায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক অনুমান। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘কোর্টের নির্দেশ মেনে অভিযুক্ত নাবালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। খুনের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।’ এদিকে, এই ঘটনায় আতঙ্কিত আবাসনের বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘দেবব্রতবাবুর সঙ্গে আমরা সকলেই স্বাভাবিকভাবে মিশতাম। তবে অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে তাঁর অতি ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ওই নাবালকের আগে থেকেই আপত্তি ছিল।’ বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় পাঁচ বছর আগে দেবব্রত পালের স্ত্রীর মৃত্যুও রহস্যজনক ছিল, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।