নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, মানকর: সম্পর্কের টানাপোড়েনেই মৃত্যু। বুধবার সন্ধ্যায় কাঁকসার জাটগোড়িয়ার জঙ্গল থেকে চারটি কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় নিশ্চিত পুলিশ। খুন নাকি আত্মহত্যা এ নিয়েই চলছে তদন্ত। কিন্তু নাবালক মেয়েটির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে তাই পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সূত্রে জানা গিয়েছে, নরকঙ্কালগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করলে তবেই নিশ্চিত হবে তাঁদের পরিচিতি। পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে পুলিশ নিশ্চিত, দু’মাস আগে বুদবুদ থানা এলাকায় যে নিখোঁজের ডায়েরি হয়েছিল, সেই সদস্যদেরই মৃতদেহ এগুলি। পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার বলেন, নরকঙ্কালগুলির পরিচয় নিশ্চিত ভাবে জানা যাবে ডিএনএ পরীক্ষার পরেই। পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে স্পষ্ট বুদবুদ থানায় যে নিখোঁজের ডায়েরি হয়েছিল সেই পরিবারের সদস্যদেরই কঙ্কাল এগুলি। যেহেতু এগুলির মধ্যে একটি শিশুর কঙ্কালও রয়েছে তাতে তাকে খুন করার ঘটনা স্পষ্ট। খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছি।
১৭ জুলাই বুদবুদ থানায় একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন দেবশালা লোদাতোলার বাসিন্দা মঙ্গল হেমব্রম। তিনি অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী মামণি হেমব্রম নাবালিকা কন্যা লক্ষ্মীকে নিয়ে প্রেমিক সুনীল হেমব্রমের সঙ্গে বাড়ি ছেড়েছেন।
কঙ্কালগুলির পাশ থেকে পুলিশ বুদবুদ থানার বাসিন্দা সুনীল হেমব্রমের পরিচয়পত্র উদ্ধার করে। এরপরই সেই সূত্র ধরে তদন্ত করে পুলিশ প্রায় নিশ্চিত এই মৃতদেহগুলি মঙ্গলের স্ত্রী মামণি হেমব্রম, নাবালিকা সন্তান লক্ষ্মী ও প্রেমিক সুনীল হেমব্রম ও মঙ্গলের শাশুড়ি লক্ষ্মী টুডুর। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, মঙ্গল স্ত্রী, মেয়ে ও স্ত্রীর প্রেমিকের বাড়ি ছাড়ার কথা বললেও তাঁর বাড়িতেই থাকা শাশুড়ি লক্ষ্মী টুডুর হারিয়ে যাওয়ার খবর পুলিশের কাছে চাপা রেখেছিলেন।
জানা গিয়েছে, প্রায় দশ বছর আগে মঙ্গল ও মামণি হেমব্রমের বিয়ে হয়। লক্ষ্মী ওই দম্পতির মেয়ে। মামণি হেমব্রমের শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন তাঁর মা লক্ষ্মী টুডু। মামণি তাঁর মা লক্ষ্মীর নামেই মেয়ের নাম রেখেছিলেন। এদিন মঙ্গল হেমব্রমের বাড়ি গিয়ে জানা যায় তাঁদের সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না। মামণি হেমব্রমের সঙ্গে তাঁর শাশুড়ি রানি হেমব্রমের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায় ছিল।একইভাবে শাশুড়ি লক্ষ্মী টুডুকেও দেখতে পারতেন না মঙ্গল হেমব্রম। এরই মধ্যে মামণি দেবশালার নতুন বাঁধ গ্রামের সুনীল হেমব্রমের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ান। এই সম্পর্ক নিয়ে প্রায়ই ওই পরিবারের মধ্যে অশান্তি হত। পরে একদিন মঙ্গল বুদবুদ থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। এই ডাইরির এক মাসের মধ্যেই মঙ্গল হেমব্রম আবার সুনীল হেমব্রমের স্ত্রীকেই বিয়ে করে নেন। সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের জেরেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত পুলিশ। মঙ্গল ও তাঁর দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রীকে দফায় দফায় জেরা করে পুলিশ নিশ্চিত হতে চাইছে এই পুরো মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে মঙ্গল কতটা দায়ী। রানি হেমব্রমের দাবি, তাঁর ছেলের কোনো দোষ নেই। নাতনির মৃত্যু নিয়ে তার আক্ষেপ থাকলেও বউমা ও বিয়ানের মৃত্যু নিয়ে তিনি নির্বিকার।