নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাজেট অধিবেশন বাতিলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সোমবার পুরসভার তরফ থেকে বাজেট অধিবেশন বাতিল করাকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করে তৃণমূল কাউন্সিলারদের চেয়ারপার্সন বিরোধী গোষ্ঠী। এদিন দুপুরের দিকে পুরসভার ১১ তৃণমূল কাউন্সিলার চেয়ারপার্সনের ঘরের সামনে ধর্নায় বসেন। পাশাপাশি পুরসভা চত্বরেই প্রতীকী বাজেট অধিবেশন করেন তাঁরা। এই ঘটনায় ফের প্রকট কৃষ্ণনগর শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।
পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস বলেন, ‘গত ৬ মার্চের অধিবেশনে বাজেট পেশ হয়। মঙ্গলবার সেই বাজেটে কাউন্সিলরদের তরফ থেকে সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের প্রস্তাবের কথা ছিল। কিন্তু বিগত দিনে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার সাক্ষী আমরা থেকেছি। তাই বাজেট অধিবেশন বাতিল করা হয়েছিল। কাউন্সিলরদের কোনও প্রস্তাব থাকলে তা ৩১ মার্চের মধ্যে লিখিত আকারে দিতে বলা হয়েছে।’
কৃষ্ণনগর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলার সিআইসি সদস্য মিলন ঘোষ বলেন, ‘চেয়ারপার্সন বাজেট অধিবেশন বাতিল করেছেন। এইভাবে উনি অধিবেশন বাতিল করতে পারেন না। তার প্রতিবাদে আমরা চেয়ারপার্সনের ঘরের সামনে ধর্না প্রদর্শন করি। পাশাপাশি প্রতীকি বাজেট অধিবেশন করা হয়।’
কৃষ্ণনগর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলার তথা সিআইসি সদস্য শিশির কর্মকার বলেন, ‘এর আগে গত ৭ মার্চ নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাজেট অধিবেশন সহ তিনটি মিটিং একসঙ্গে ডেকেছিলেন। কিন্তু সেই অধিবেশন হয়নি। চেয়ারপার্সন সেই অধিবেশন ২৪ মার্চ আবার ডাকেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে আমরা জানতে পারি, তা নাকি বাতিল হয়েছে। এটা উনি করতে পারেন না। দলের কাউন্সিলরদের চেয়ারপার্সন হেনস্তা করছেন।’
উল্লেখ্য এর আগে বাজেট অধিবেশনের দিন চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা হয় কৃষ্ণনগর পুরসভায়। চেয়ারপার্সনকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। যে কারণে বাজেট পেশ করার পর চেয়ারপার্সন রীতা দাস অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখনই পরিবর্তী দিনে অধিবেশন ডাকা হবে বলে জানানো হয়। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার ছিল সেই অধিবেশনের দিন। এদিন বেলার দিকে চেয়ারপার্সন চিঠি মারফত অধিবেশন বাতিলের নির্দেশ দেন।
কৃষ্ণনগর শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলার বর্ণালী গুইন দত্ত বলেন, ‘তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে শহরের মানুষ যেন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। পুরসভায় দ্রুত জটিলতা কাটুক সেটাই আমরা চাই।’