


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শুধু দিল্লি কিংবা মুম্বই নয়, শ্বেতা খান ওরফে ফুলটুসির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল থাইল্যান্ড, ব্যাংককের পর্ন দুনিয়ার কারবারিদের। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশে ‘সফ্ট পর্ন’ ক্লিপ পাচারের সাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রেও তার হাত ছিল বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে, সোদপুরের যুবতীকে বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর চার দিন কেটে গেলেও এখনও অধরা রয়েছে শ্বেতা ও তার ছেলে আরিয়ান খান। তাদের বন্ধ ফ্লাটে বহু তথ্য-প্রমাণ থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিসের। তাই ফ্ল্যাট খুলে তল্লাশি চালানোর জন্য ইতিমধ্যেই আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে পুলিস। পাশাপাশি শ্বেতার সঙ্গে শাসক দলের কার কীরকম ঘনিষ্ঠতা ছিল, তাও জানার চেষ্টা চলছে।
তদন্ত পর্বে পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর মতো শ্বেতার একের পর এক কুকীর্তি বেরিয়ে আসছে। ‘নীল ছবি’র দুনিয়ার সঙ্গে তার যোগসূত্র মিলেছিল আগেই। কলকাতা কিংবা মুম্বইয়ের সফ্ট পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে ভিডিও ক্লিপ সরবরাহ করত শ্বেতা। কিন্তু দেশের সীমা পার করে ভিনদেশেও যে তার যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল, সে ব্যাপারে একাধিক সূত্র খুঁজে পাচ্ছে পুলিস। জানা গিয়েছে, তদন্তভার নেওয়ার পর মাসারুল দেওয়ান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে হাওড়া সিটি পুলিস। পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী ওই ব্যক্তি সম্পর্কে শ্বেতা খানের ভাই বলে জানা গিয়েছে। শ্বেতার নানাবিধ কারবারের আর্থিক হিসেব রাখতেন তিনি। তাঁকে আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিস। সেই সূত্রেই পুলিশ জানতে পেরেছে, মুম্বই, দিল্লি, বিহার বাদেও থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের সফ্ট পর্ন ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল শ্বেতার। পর্ন রিলস তৈরি করে ওই দেশের একাধিক সাইটে তা সরবরাহ করত সে। তার বিনিময়ে মিলত মোটা অঙ্কের টাকা। এই কাজের জন্য শ্বেতা ও আরিয়ান বেশ কয়েকবার যে ব্যাংকক-পাটায়া গিয়েছিল, সে তথ্যও পেয়েছে পুলিস। শ্বেতার এই বিদেশযাত্রার সঙ্গে কোন কোন চক্রের যোগসূত্র রয়েছে, সেই উত্তর তালাশ করছে পুলিস।
বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশীয় পর্ন ইন্ডাস্ট্রির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টাকা মিলবে বলে বিদেশি সংস্রব তৈরি হয়েছিল শ্বেতার। মুখে রঙিন মুখোশ চাপা দিয়ে বোল্ড সিনের পর্ন ভিডিও তৈরি হয় এই দেশগুলোতে। বেশ কয়েকজন যুবতীকে দিয়ে এই ধরনের ‘ডেমো ভিডিও ক্লিপস’ শ্বেতা ব্যাংককের কারবারিদের কাছে পাঠিয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, বাঁকড়ার বন্ধ ফ্লাটে এই সংক্রান্ত আরও অনেক তথ্য প্রমাণ লুকোনো রয়েছে। যে ফ্ল্যাটে তারা থাকতো, তার বাইরে একটি মাত্র সিসি ক্যামেরা ছিল। সেই ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পেতে একপ্রকার মরিয়া পুলিস। বন্ধ ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তল্লাশি চালাতে ইতিমধ্যেই আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে হাওড়া সিটি পুলিসের তরফে।
অপরদিকে শ্বেতা খানের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সংস্রবের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিস। অভিযোগ উঠেছে, শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের তেমন পাত্তা না দিলেও, কয়েকজন বড় নেতার ‘ছাতা’ ছিল খান পরিবারের উপরে। লোকজনকে ‘দমিয়ে’ রাখতে তৃণমূলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, দেওয়াল লিখন কর্মসূচি, দলীয় সম্মেলনের ছবি ও ভিডিও নিজের কাছে রেখে দিত শ্বেতা। এগুলো দেখে পাড়া-প্রতিবেশীদের ধমকে-চমকে রাখত সে। যদিও শ্বেতা খানের সঙ্গে দলীয় যোগাযোগের বিষয়টি নস্যাৎ করেছে তৃণমূল। নেতৃত্বের দাবি, এই ধরনের মহিলা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যেকোনও পর্যায়ে যেতে পারে। যদি কারও সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ থাকে, সে দায়িত্ব দলের নয়।