


রায়পুর: ‘রো-কো’র দ্বৈরথ হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছিল রবিবারের মহারণ। তবে দু’জনেই ব্যর্থ। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ঝোড়ো শুরু করেও রোহিত শর্মা (২২) ফেরেন দ্রুত। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরাট কোহলি আবার গত ম্যাচের মতোই খাতা খোলেননি। প্রথম বলেই আউট চেজমাস্টার। তবে তাঁর দল শেষ বলের থ্রিলারে জয় ছিনিয়ে নেয় (১৬৭-৮)। দুই উইকেটে এই জয়ের সুবাদে আরসিবি (১৪ পয়েন্ট) এখন তালিকার শীর্ষে। অন্যদিকে, প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেল মুম্বই ও লখনই।
১৬৭ তাড়া করতে নেমে ৩৯ রনের মধ্যে তিন উইকেট হারায় আরসিবি। বিরাট ছাড়াও ফেরেন দেবদূত পাদিক্কাল (১২) ও ক্যাপ্টেন রজত পাটীদার (৮)। চাপে পড়া ইনিংস মেরামত করেন ক্রুণাল পান্ডিয়া (৪৬ বলে ৭৩)। পেশির টান সামলে পাঁচটি ছক্কা ও চারটি চার মারেন তিনি। কিন্তু উলটোদিকে পরপর জেকব বেথেল (২৬), জিতেশ শর্মা (১৮), টিম ডেভিডরা (০) আউট হওয়ায় চাপ বাড়ে। শেষ ওভারে বেঙ্গালুরুর দরকার ছিল ১৫। অনভিজ্ঞ রাজ বাওয়ার ষষ্ঠ বলে দৌড়ে দু’রান নিয়ে জেতান রসিখ ।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নীতা আম্বানির ফ্র্যাঞ্চাইজি কখনওই স্বস্তিতে ছিল না। বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন বর্ষীয়ান ভুবনেশ্বর কুমার। মাত্র ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। প্রথম ওভারেই নাকল ডেলিভারিতে ফেরান রায়ান রিকেলটনকে (২)। ম্যাচের তৃতীয় ওভারে মুম্বইকে জোড়া ধাক্কা দেন সেই ভুবি। এবারও নাকল ডেলিভারিতে বাজিমাত। রোহিতের খোঁচা ডানদিকে ঝাঁপিয়ে তালুবন্দি করেন কিপার জিতেশ শর্মা। সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বসিত সেলিব্রেশনে মেতে ওঠেন কোহলি। পরের বলে সূর্যকুমার যাদবের ক্যাচ শরীর ছুড়ে ধরেন ভিকে। অফস্টাম্পের বাইরে পড়ে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে ব্যাট বাড়িয়ে দেন মুম্বইয়ের স্টপগ্যাপ ক্যাপ্টেন। হার্দিক পান্ডিয়ার চোটের কারণে রবিবারও নেতৃত্ব দেন স্কাই। কিন্তু সদ্য বাবা হওয়া সূর্যর অফ-ফর্ম অব্যাহত। চলতি আসরে ১১ ইনিংসে ১৭.৭২ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ১৯৫ রান। টিম ইন্ডিয়ার টি-২০ দলেও বিশ্বকাপজয়ী ক্যাপ্টেনের জায়গা নিয়ে প্রশ্নের আকার তাই বড় হচ্ছে।
তিন ওভারের শেষে মুম্বইয়ের স্কোর ছিল ২৮-৩। ধুঁকতে থাকা ইনিংসকে ভরসা দেন নমন ধীর ও তিলক ভার্মা। দু’জনে চতুর্থ উইকেটে ৫৭ বলে যোগ করেন ৮২। নমন (৪৭) ও তিলক (৫৭) ফেরার পর মুম্বইয়ের ইনিংসকে ফের অসহায় দেখায়। ৭ উইকেটে কোনোরকমে তারা তোলে ১৬৬ রান।