


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: নিম্নচাপের বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবারও বাঁকুড়ার স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪২.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা চলতি মরশুমে রেকর্ড। অতিবৃষ্টির জেরে জেলার একাধিক কজওয়ে ও রাস্তার উপর দিয়ে এদিন জল বয়ে যায়। তারফলে জেলার বেশ কিছু পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে ওন্দায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে এক প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম রেবা মাজি(৫৪)। তাঁর বাড়ি ওন্দা থানার সাহাপুর এলাকায়। এদিন সকালে তিনি পুকুরঘাটে যাওয়ার সময় কোনওভাবে বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে চলে আসেন। তারফলে তাঁর মৃত্যু হয়।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বৃষ্টিতে জেলার ৫৪৬টি মাটির বাড়ির আংশিক অথবা সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। বাঁকুড়া-১ ও ২, কোতুলপুর, সিমলাপাল সহ জেলার সাতটি ব্লক এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। তালডাংরা ব্লকে ১০টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানকার পাঁচমুড়া অঞ্চলে বৃষ্টির জল বাড়িতে ঢুকে যাওয়ায় কয়েকটি পরিবারকে ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জলের তলায় চলে যাওয়া কজওয়ে ও রাস্তার দু’পাশে পুলিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিন দ্বারকেশ্বর ও গন্ধেশ্বরী নদী ফুলেফেঁপে ওঠায় মিনাপুর ও মানকানালি রোডের কজওয়ের উপর দিয়ে প্রবল বেগে জল বইতে থাকে। শিলাবতী নদীর জলের তলায় চলে যায় সিমলাপালের কজওয়ে। তারফলে বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক ধরে যাওয়ার সময় কয়েকটি লরি ও ছোট গাড়ি জলে আটকে পড়ে। স্থানীয়রা দড়ি ও টিউবের সাহায্যে উদ্ধার করেন। সিমলাপালেরই লক্ষ্মীসাগর ও রাইপুরের শ্যামসুন্দরপুর অঞ্চলের পালি, খুদেকানালি বারিকুলের পরাডি, কুইলাপাল, তালডাংরার জোরসা কজওয়ে জলের তলায় চলে যায়। ওইসব জায়গায় একাধিক ছোটগাড়ি জলের মধ্যে আটকে পড়ে।
টানা বৃষ্টির জেরে বিষ্ণুপুর মহকুমায় একাধিক কজওয়ে ডুবে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। শহর ও গ্রামে প্রচুর মাটির বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়। এদিন বিষ্ণুপুরের সুভাষপল্লিতে বিড়াই নদীর উপর থাকা কজওয়ের উপর দিয়ে জল বইতে থাকে। এলাকার বাসিন্দাদের ঘুরপথে দ্বারিকা হয়ে বিষ্ণুপুর শহরে যাতায়াত করতে হয়েছে। আঁইচবাড়ি খালের উপর থাকা অস্থায়ী রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আইঁচবাড়ি ও দমদমা গ্রামের বাসিন্দাদের এমআইটি মোড় হয়ে ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়েছে। একইভাবে জয়রামবাটিতে আমোদর নদের উপর থাকা কজওয়ের উপর দিয়ে জল বয়ে যাওয়ায় কোতুলপুর-জয়রামবাটি রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও জয়পুর, ইন্দাস, পাত্রসায়র এবং সোনামুখীর বিভিন্ন এলাকার খালের জল বেড়ে যাওয়ায় রাস্তার উপর দিয়ে বইছে।
শহরের শাঁখারিবাজারে এক ব্যক্তির পুরনো একটি মাটির বাড়ি রাস্তার উপর ধসে পড়ে। যদিও ওই সময় রাস্তায় কেউ না থাকায় সাধারণ মানুষের বিপদ হয়নি। পার্শ্ববর্তী আরও একটি মাটির বাড়ির গোড়া আলগা হয়ে যাওয়ায় গোটা বাড়িটি কার্যত ঝুলছে। যে কোনওসময় তা হুড়মুড়িয়ে রাস্তার উপর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন। দ্বারিকায় এক ব্যক্তির চালাঘরের দেওয়াল ধসে পড়ে। সেখানেই আবাস যোজনায় তৈরি একটি পাকা বাড়ির তলা দিয়ে জল বয়ে যাওয়ায় গোড়ার মাটি ক্ষয়ে গিয়েছে। বাড়িটি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।