Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অ্যাকোরিয়ামের জলে টানা ৩০ ঘণ্টা, রেকর্ড হাওড়ার মুকেশ গুপ্তার

অ্যাকোরিয়ামের জলে টানা ৩০ ঘণ্টা, রেকর্ড হাওড়ার মুকেশ গুপ্তার
  • ৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সাধারণত অ্যাকোরিয়ামে বন্দি থাকে রঙিন মাছ। কিন্তু সেই অ্যাকোরিয়ামের মধ্যেই টানা ৩০ ঘণ্টা জলের তলায় বসে থেকে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম তুললেন হাওড়ার রামকৃষ্ণপুরের ২৫ বছরের যুবক মুকেশ গুপ্তা। পেশায় চা বিক্রেতা এই যুবকের অদম্য মানসিক জোর ও সাহসিকতার কাহিনি এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। এই কৃতিত্বের জন্য মুকেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পুর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই।

Advertisement

রামকৃষ্ণপুর ঘাটের বাসিন্দা মুকেশের জীবনের সঙ্গে গঙ্গার সম্পর্ক ছোটোবেলা থেকেই। পাঁচ-ছয় বছর বয়সেই সাঁতার শেখা শুরু। পড়াশোনার পর চাকরি জোটেনি। বাধ্য হয়ে মাকে সঙ্গে নিয়ে ঘাটের কাছে ছোটো একটি চায়ের দোকান করেন। সম্প্রতি প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করায় সেই দোকান উঠে গিয়েছে। ফলে কার্যত বেকার হয়ে পড়েছেন তিনি। কিন্তু প্রতিকূলতা তাঁর স্বপ্ন থামাতে পারেনি। শুক্রবার দুপুরে রামকৃষ্ণপুর ঘাটে তিন ফুট লম্বা, দু’ফুট চওড়া ও দু’ফুট উচ্চতার একটি কাচের অ্যাকোরিয়ামে নামেন মুকেশ। জলের মধ্যে জড়োসড়ো হয়ে বসে, মুখে একটি সরু বাঁশের নল লাগিয়ে টানা ৩০ ঘণ্টা কাটান তিনি। অ্যাকোরিয়ামের ভিতরে ছিল কয়েকটি রঙিন মাছও। সেই বিরল দৃশ্য দেখতে গঙ্গার ঘাটে উপচে পড়ে ভিড়। অসংখ্য মানুষ মোবাইলে সেই মুহূর্ত বন্দি করেন। এই পর্বে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখেন পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা।
শনিবার সন্ধ্যায় ৩০ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার পর অ্যাকোরিয়াম থেকে বেরিয়ে আসেন মুকেশ। পরে তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে ছেড়ে দেন। প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, ‘ওয়াটার স্পোর্টসে মুকেশের একাধিক কৃতিত্ব রয়েছে। গঙ্গায় বহু মানুষের প্রাণও বাঁচিয়েছেন তিনি। এবার ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম তুলে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর জন্য কর্মসংস্থানের চেষ্টা করা হবে।’ মুকেশ বলেন, এর আগে হাত বেঁধে গঙ্গা পার হওয়া, হাওড়া ব্রিজ ও বিদ্যাসাগর সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া, চার ঘণ্টায় ১১ হাজারের বেশি ডুব দিয়ে রেকর্ড গড়া সহ একাধিক দুঃসাহসিক কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এই সাফল্যের জন্য দীর্ঘদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত অ্যাকোরিয়ামে অনুশীলন করেছেন। এবার আরও বড়ো রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখছেন হাওড়ার এই চা বিক্রেতা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ