Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যা

ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যা
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মা যোগ্যাদ্যা দেবী মহামায়ার অন্য এক রূপ। মার্কণ্ডেয় পুরাণে এই দেবীর বর্ণনা রয়েছে। অবধূতা রামায়ণের কাহিনি অনুসারে মহাকালী বা ভদ্রকালী অর্থাৎ দেবী মহামায়ার সেবক, রাবণের এক পুত্র মহীরাবণ রাম ও লক্ষ্মণকে গোপনে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তিনি ছলনায় রাম-লক্ষ্মণকে পাতালে নিয়ে আসেন। মহাকালীর সামনে বলি দেওয়ার সময় কৌশলে মহীরাবণকেই বধ করে হনুমান। এরপর দেবী মহামায়া সহ রাম ও লক্ষ্মণকে উদ্ধার করে তিনদিন ধরে লাগাতার পাতাল পথে এসে এই ক্ষীরগ্রামে ওঠেন সেবক হনুমান। অবতার রাম ও লক্ষ্মণ রাঢ় অঞ্চলে থাকতে পারেননি। কিন্তু দেবী মহামায়া বা মহাকালী যোগ্যাদ্যা রূপে রাঢ় বঙ্গে পূজিত হতে শুরু করে। ক্ষীরগ্রামে সতীদেহের ডান পায়ের আঙুল পড়েছিল বলেই কথিত আছে। তাই এটি একান্ন পীঠের একটা পীঠস্থান। রামায়ণের কাহিনি অনুযায়ী, মহীরাবণ বধের পর পাতালের ভদ্রাকালী রাম-লক্ষ্মণকে আদেশ দিয়েছিলেন, তাঁকে যেন পৃথিবীর মধ্যস্থলে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাই ক্ষীরগ্রামকে স্থানীয়রা মধ্যস্থল হিসাবেই মনে করেন। মানুষের বিশ্বাস, মায়ের পুরনো রত্নবেদীতে একটি পাতালের সুড়ঙ্গ আজও আছে। ওই পাতাল পথ দিয়েই নাকি দেবীর আবির্ভাব হয়েছিল! এর কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অবশ্য মেলে না। বাংলার প্রায় ১৩৬৯ বঙ্গাব্দে বর্ধমানের রাজ পরিবার থেকে দেবী যোগাদ্যার পুজোর ভার যায় গ্রামের ট্রাস্টের হাতে। ২৭ বৈশাখ ‘মহীরাবণ বধ’ হয়। তাই ওইদিন মায়ের রত্নবেদীতে খাঁড়া রাখতে হয়। মা যোগাদ্যার প্রস্তর মূর্তি সারা বছর জলে রাখা থাকে। নির্ঘন্ট মেনে বৈশাখ মাসের সংক্রান্তিতে জল থেকে তুলে পুজো দিয়ে প্রতীকী নররক্তের পুজো দিয়ে আবার জলে ডুবিয়ে রাখা হয়। মাসের শেষে মায়ের কাছে বিশেষ হাল-লাঙল অনুষ্ঠানের পর জমিতে লাঙল দেন কৃষকরা। শাস্ত্রীয় প্রথা মেনে গ্রামের এক পরিবার আজও দেবীর উদ্দেশে শরীর থেকে কয়েক ফোঁটা রক্ত দেন। তারপর শুরু হয় মহাপুজোর আয়োজন। পরম্পরা রীতি মেনেই এখানে অনেক পুরনো রেওয়াজ চালু আছে। যেমন, বৈশাখ মাসজুড়ে প্রখর রোদেও কেউ কোনও ছাতা ব্যবহার করতে পারবেন না। সন্ধ্যে দেওয়ার জন্য কোনও সলতেও পাকানো যাবে না।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ