Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

যৌনকর্মীকে বাড়িতে আনার প্রস্তাব না মানায় মাকে নগ্ন করে বেদম মার

নিষিদ্ধপল্লি থেকে পছন্দের যুবতীকে নিয়ে এসে বাড়িতে তুলতে চায় ছেলে। সঙ্গে আনতে চায় যুবতীর মাকেও। ছেলের এই আবদার মেনে নিতে চাননি পরিবারের সদস্যরা।

যৌনকর্মীকে বাড়িতে আনার প্রস্তাব না মানায় মাকে নগ্ন করে বেদম মার
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নিষিদ্ধপল্লি থেকে পছন্দের যুবতীকে নিয়ে এসে বাড়িতে তুলতে চায় ছেলে। সঙ্গে আনতে চায় যুবতীর মাকেও। ছেলের এই আবদার মেনে নিতে চাননি পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবাদ করায়, প্রৌঢ়া মাকে শুধু মারধর নয়, তাঁকে নগ্ন করে ভিডিও তোলার পাশাপাশি ওই নিষিদ্ধপল্লিতে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বরানগরে। সবটা শুনে হতবাক শহরবাসী, পুলিশ কর্তারাও বাক্যহারা। পুলিশ অভিযুক্ত যুবক ভাস্কর ধরকে গ্রেফতার করেছে।

Advertisement

ভাস্করের বাড়ি বরানগরের শশীভূষণ নিয়োগী গার্ডেন লেন এলাকায়। পেশায় অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার। আগে একটি নামকরা বাইক সংস্থায় কাজ করত। পরে বাড়ির নীচে গ্যারাজ খুলেছিল। বছর তিরিশের এই যুবকের বাবা ১৫ বছর আগে মারা গিয়েছেন। বাড়িতে মা ও এক বোন রয়েছেন। অভিযোগ, প্রায়ই মায়ের সঙ্গে অশান্তি হত ভাস্করের। মাকে অকথ্য গালিগালাজ করত সে। সোমবার গভীর রাতে বাড়ি ফিরে জানায়, নিষিদ্ধপল্লির এক যুবতীকে সে বাড়িতে নিয়ে আসবে। সঙ্গে আসবেন যুবতীর মাও। প্রৌঢ়া মা এসব শুনে হকচকিয়ে যান। ছেলে বলে, তাদের সঙ্গেই থাকতে হবে বোন আর মাকে। মা প্রতিবাদ করলে মারধর শুরু করে যুবক। এমনকি, মায়ের পরনের শাড়ি খুলে তা দিয়ে গলায় ফাঁস পর্যন্ত লাগাতে যায় সে। অভিযোগ, এরপর মাকে নগ্ন করে ভিডিয়ো পর্যন্ত তোলে। ধস্তাধস্তিতে আঘাত পান ওই প্রৌঢ়া। রক্তাক্ত হন তিনি। অত্যাচার থামেনি তখনও। ওই রাতেই মাকে জোর করে নিয়ে যায় বড়তলা এলাকার নিষিদ্ধপল্লিতে। যাতে মা গিয়ে ওই যৌনকর্মীকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। যদিও ওই যুবতী শেষমেশ নিজেই ভাস্করের বাড়িতে আসতে রাজি হননি। এই অবস্থায় মাকে নিষিদ্ধপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সেখানে ফেলে রেখেই চলে আসে সে। ভোররাতে প্রৌঢ়া কোনওমতে বরানগরে পৌঁছে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে যান চিকিৎসা করাতে। তারপর বাড়ি ফেরেন। 
মঙ্গলবার বরানগর থানায় অভিযোগ জানাতে যান ‘গুণধর’ ছেলের মা। ঘটনার বিবরণ শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান পুলিশ কর্তারা। ওই যুবকের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা সহ মোট ছ’টি ধারায় অভিযোগ দায়ের করে গ্রেফতার করা হয় তাকে। ওই প্রৌঢ়া বলেন, ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এমন কুলাঙ্গার কেউ হতে পারে, আমিও স্বপ্নে ভাবতে পারছি না। স্থানীয় কাউন্সিলার আলপনা নাহা বলেন, এই ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত, লজ্জিত, বাক্যহারা। আমরা প্রৌঢ়ার পাশে আছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ