সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: আবেগ আর আক্রমণের আধারে সংসদে মঙ্গলবার নজর কাড়লেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ‘অপারেশন সিন্দুর’ ইস্যুতে বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে লোকসভায় টার্গেট করলেন সরকারের ব্যর্থতাকে। তুলে আনলেন পিতা রাজীব গান্ধীর প্রাণ হারানোর প্রসঙ্গ। মা সোনিয়ার বুকচাপা কষ্ট। বললেন, ‘আমার মায়ের চোখের জল পড়েছে তখনই, যখন তাঁর স্বামীকে জঙ্গিরা শহিদ করেছে। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে। তাই উপহাস করবেন না। স্বজনহারার কান্না আমরা অনুভব করতে পারি।’ প্রিয়াঙ্কার প্রশ্ন, বৈসরণে কেন নিরীহ নাগরিকদের কোনও সুরক্ষা ছিল না? কেন হারাল নিরীহ প্রাণ? কেন তাদের ভগবানের ভরসায় ছেড়ে দিলেন? তার ব্যর্থতার দায় কে নেবে?
প্রিয়াঙ্কার প্রশ্ন, কেউ কি এখনও পর্যন্ত ব্যর্থতার দায় দিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন? প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রিয়াঙ্কার পরামর্শ, স্রেফ কৃতিত্ব নয়, ব্যর্থতার দায় নিতেও শিখুন। অমিত শাহর উদ্দেশে বলেন, নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী এমনকী আমার মা সোনিয়ার নামে সমালোচনা তো করলেন, কিন্তু জবাব দিন পাকিস্তান যখন হারের মুখে, তখন কেন যুদ্ধ বন্ধ করলেন? ভুলে যাবেন না, পাকিস্তানি জঙ্গিরা ভারতীয় প্রাণ কেড়ে নিয়ে চলে গেছে!
বোনের সুরেই তোপ দাগলেন রাহুল গান্ধীও। তুললেন ইন্দিরার প্রসঙ্গ। বললেন, নরেন্দ্র মোদির যদি ইন্দিরা গান্ধীর সাহসের ৫০ শতাংশও থাকে, তাহলে বুক ঠুকে বলুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিথ্যেবাদী। জবাব দিন, কেন সেনাবাহিনীকে পুরো ক্ষমতা দিলেন না? কেন পাকিস্তানকে সঠিক জবাব দেওয়ার সুযোগ থেকে সেনাকে বঞ্চিত করলেন? মাঝপথে কেন ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন? আসলে সেনাবাহিনীর সাহস, বীরত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্রেফ নিজের ইমেজ বাঁচাতে ব্যবহার করেছেন। তাদের প্রত্যাঘাতের অবাধ ছাড়পত্র দেননি। ১৯৭১ সালে সেটা দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।
বিরোধীদের সুর মজবুত করতে যোগ দেন তৃণমূলের সাংসদ সায়নী ঘোষও। কটাক্ষের সুরে বললেন, দেশে বাংলাদেশি ঢুকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষ দেন। তাহলে জঙ্গিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসার জন্য দায় কার? কেন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পাক অধিকৃত কাশ্মীর ছিনিয়ে আনা হল না? অপারেশন সিন্দুর ইস্যুতে রাজ্যসভাতেও সরকারের সমালোচনা করে বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, পাকিস্তানের কতগুলো যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, তা স্পষ্ট করা জরুরি। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার দায়ভার নেওয়া উচিত ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। কিন্তু তা হয়নি। আপনারা আর কতদিন কংগ্রেসের উপর ভর করে বাঁচবেন? কংগ্রেস এই করেনি, সেই করেনি। এবার তো অন্তত নিজেদের কথা বলুন। তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ বলেন, নরেন্দ্র মোদির শিরায় সিঁদুর নয়। রাজনীতি রয়েছে। মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি।