Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অধিকাংশ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব জমি নেই, মার খাচ্ছে সহজলভ্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

নিজস্ব ঘর নেই, না আছে নিজস্ব জমি। তাতেই কপাল পুড়েছে মগরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের একগুচ্ছ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের। আধুনিক ও কম ব্যায়ের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কেন্দ্রগুলি।

অধিকাংশ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব জমি নেই, মার খাচ্ছে সহজলভ্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প
  • ১৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: নিজস্ব ঘর নেই, না আছে নিজস্ব জমি। তাতেই কপাল পুড়েছে মগরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের একগুচ্ছ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের। আধুনিক ও কম ব্যায়ের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কেন্দ্রগুলি। তাতে ভবিষ্যতে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে শিশুশিক্ষার্থীদের। কারণ, বিদ্যুৎ ব্যয় কমিয়ে তা নিয়ে শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টির উন্নয়নে বাড়তি পদক্ষেপ করার সুযোগ থেকে কেন্দ্রগুলি বঞ্চিত হবে। আপাতত সমস্যা মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন পঞ্চায়েত কর্তারা। কিন্তু প্রশাসন তাতে কতটা সাড়া দেবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। আর সেই পরিসরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের আধুনিকীকরণের কাজ কার্যত আটকেই থাকছে।

Advertisement

সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন মগরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। সেই খরচ বাঁচাতে পারলে তা নানা কাজে ব্যবহার করা যায়। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ ও বিদ্যুৎ ব্যয় বাঁচাতে আমরা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর কথা ভেবেছিলাম। তাতে শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টির জন্য বাড়তি ব্যয় করার এবং সার্বিক ব্যয় কমানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু তা করা যাচ্ছে না। কারণ, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি থাকা প্রয়োজন। মগরা-১ পঞ্চায়েতে সিংহভাগ অঙ্গওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব বাড়িই নেই, জমি দূর অস্ত। ফলে, বিরাট সমস্যার মুখে আমাদের পড়তে হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, সমস্যা মেটাতে পঞ্চায়েতে তরফে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ মুচলেকাও দিতে চেয়েছেন যে, দ্রুত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির নিজস্ব জমির ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তাতে প্রশাসনিক নিয়ম কতটা বদলানো যাবে, সন্দেহ আছে। ফলে, আপাতত সরকারি প্রকল্প থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি বঞ্চিতই থাকবে। এনিয়ে হুগলি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ রঞ্জন ধাড়া বলেন, সমস্যার কথা আমার জানা নেই। তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে কি সমাধান সূত্র বের করা যায় তা খতিয়ে দেখব।

মগরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ২৫টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আছে। তার অধিকাংশই ভাড়া বাড়িতে, ক্লাবের ঘরে পরিচালিত হয়। কোথাও সামান্য জরাজীর্ণ ভবন থাকলেও নিজস্ব জমি বা বাড়ি বেশির ভাগ কেন্দ্রেরই নেই। অথচ কেন্দ্রগুলি চালাতে বিপুল বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বইতে হয়। সম্প্রতি সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং কেন্দ্রগুলির জন্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহন করতে চেয়েছিল স্থানীয় পঞ্চায়েত। কিন্তু জমি ও আইনি জটে সেই উদ্যোগ মাঠে মারা গিয়েছে। তার জেরে কেন্দ্রগুলির ভবিষ্যত নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। 

সম্পর্কিত সংবাদ