দেখতে অবিকল মশার মতো। কিন্তু কানের কাছে পুনপুন করে গান শোনায় না। রক্তও খায় না। পাতলা ডানা, তারের মতো পা, আর আকারে মানুষের নখের চেয়েও ছোট্ট এই ‘মশা’ আসলে চীনের তৈরি গুপ্তচর ড্রোন! সম্প্রতি সেদেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এটি প্রকাশ্যে এনেছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাইক্রো ড্রোন’।
ড্রোনটি আকারে ছোট হলেও গোপন নজরদারি ও সামরিক অভিযানে ব্যবহারের জন্য উপযোগী বলে চীনের দাবি। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষুদ্র আকারের কারণে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে পর্যবেক্ষণ ও নজরদারিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে এই ড্রোন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কেন্দ্রের গবেষক হার্ব লিনের বক্তব্য, কোনও ভবনের ভিতরে নজরদারির ক্ষেত্রে এই ড্রোন কার্যকর হতে পারে। তবে প্রচলিত ব্যাটারিতে চললে দীর্ঘ সময় উড়তে পারবে না। তাছাড়া খুব হালকা হওয়ায় বা বাতাসের ঝাপটায় সহজেই নড়ে যেতে পারে। ফলে বিস্তৃত এলাকায় নজরদারির জন্য উপযোগী নয়। তবে ছোট আকারের ড্রোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর উপর নজরদারিতে কার্যকর হতে পারে।
মার্কিন ‘সেন্টার ফর নেভাল অ্যানালিসিস’-এর উপদেষ্টা ও ড্রোন বিশেষজ্ঞ স্যামুয়েল বেনডেট জানাচ্ছেন, ‘ড্রোন যত ছোট হবে, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব সেটির উপর তত বেশি হবে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ঘরের হালকা বাতাস, এসির হাওয়া, খোলা জানালা দিয়ে আসা বাতাস বা সামান্য কোনও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লেও ড্রোনটির কার্যক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের গবেষক ও প্রযুক্তি বিশারদ মাইকেল হোরোভিট্জও এব্যাপারে একমত। তাঁর মতে, চীন যে আরও সুক্ষ্ম ও উন্নত পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির দিকে এগচ্ছে, এই ড্রোন তারই ইঙ্গিত।