বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় বা জুবিন গর্গের মতো জনপ্রিয় মানুষের মৃত্যুর পর সমুদ্র বা নদীর সামনে দাঁড়ালে ছ্যাঁত করে ওঠে বুক। প্রিয় অভিনেতা বা শিল্পীর মৃত্যুর পর হঠাৎ করে সজাগ-সচেতন হয়ে ওঠে মানুষ। সমুদ্রের ধারে সপরিবারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ নাবালক ছেলে বা মেয়ের হাত দু’টি আরও শক্ত করে চেপে ধরে। নিরাপদ দূরত্বে জল নিয়ে খেলা করতে থাকা সন্তানকে ছোটো ঢেউ এলেও চেপে ধরে রাখে মা। আসলে বাস্তব হল, একটি-দু’টি বা একশো-দেড়শো নয়, প্রতি বছর ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে শুধু জলে ডুবে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) এই পরিসংখ্যান শরীর দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট! ২০২২ সালের রিপোর্টে এনসিআরবি জানিয়েছিল, সে বছর জলে ডুবে মারা গিয়েছিলেন ৩৮ হাজার ৫০৩ জন। ২৩ সালের সর্বশেষ রিপোর্টে এই পরিসংখ্যান সামান্য কম হলেও মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। সংখ্যাটা ৩৭ হাজার ৭৭৮। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তার মধ্যে জলে পড়ে গিয়ে ডুবে মারা গিয়েছেন ২৭ হাজার ৫০৮ জন। অন্যান্য ভাবে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ১১৩ জনের। নৌকাডুবির ফলে মৃত্যু হয়েছে ১১৭ জনের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ডুবে মারা যান। অন্যদিকে, সিনির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে রোজ গড়ে প্রায় ১২ জন শিশুর জলে ডুবে মৃত্যু হয়। বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে বাড়ির কাছের পুকুর বা জলাশয়ে।



