


দেরাদুন: ফের বিপর্যয়ের ভ্রুকুটি দেবভূমিতে! ২০২৩ সালে ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার যোশিমঠে। এবারও তেমনই দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেবভূমির এই শহরের মাটি বেশ নড়বড়ে। ঢালগুলিও শক্তপোক্ত নয়। ফলে ক্রমেই ডুবছে যোশিমঠ। এই পরিস্থিতিতে ভারী বৃষ্টিপাতে মাটি আরও নরম হয়ে বড় বিপর্যয় নেমে আসবে।
সম্প্রতি এসংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান জিওলজি (ডব্লুআইএইচজি)। বিশেষজ্ঞদের মতে, যোশিমঠের বসে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ এর ভৌগলিক অবস্থান এবং গঠন। হিমালয়ে ভূমিধসের উপরেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল বদ্রিনাথের শীতকালীন আবাস এই জনপদ। সেকারণেই যোশিমঠের মাটির ভারবহন ক্ষমতা অনেটাই কম। এর উপর ভিত্তি করে ডব্লুআইএইচজি জানিয়েছে, যোশিমঠের মাটি দুর্বল। তবে অত্যন্ত ধীর গতিতেই এই জনপদ ডুবছে। কিন্তু, ভারী বৃষ্টিপাত হলে মাটি আরও নরম হবে। তাতে ২০২৩ সালে পুনরাবৃত্তি হতে পারে। ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী তথা ভূতত্ববিদ ডঃ মণিশ মেহেতার মতে, প্রায় সাত হাজার বছর আগে ভূমিধসের কারণে এর জন্ম। তার উপরেই শহর গড়ে উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই যোশিমঠের ভিত শক্ত নয়। সেজন্য বাড়িঘর, পরিকাঠামোর বিপুল ভারবহণ করার ক্ষমতা নেই যোশিমঠের। তাই এই জনপদ এতটা বিপর্যয়প্রবণ। জানা গিয়েছে, ২০২৩-এর দুর্যোগে বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। চওড়া ফাটল তৈরি হয় বাড়ি, রাস্তায়। বেশ কিছু ইমারত ভেঙেও পড়ে। এরপর জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া, সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট সহ একাধিক এজেন্সি একত্রে সমীক্ষা চালায়। তাতে দেখা যায়, শহরের ২ হাজার ১৫২টি ইমারতের মধ্যে ১ হাজার ৪০৩টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর ৪৭২টি বাড়ি নতুনভাবে তৈরির সুপারিশ করে কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে ৯৩১টি মেরামত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ধীরে ধীরে বাসিন্দারা ফিরে এসেছেন। সামনেই বর্ষার মরশুম রয়েছে। তাতেই স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।