Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বর্ষা-ঘূর্ণাবর্ত, ভাসল কলকাতা ও শহরতলি

কলকাতা ও শহরতলিতে ঘূর্ণাবর্তের কারণে ভারী বর্ষণ চলছে। জলমগ্ন বহু এলাকা, জনজীবন বিপর্যস্ত। বিস্তারিত পড়ুন।

বর্ষা-ঘূর্ণাবর্ত, ভাসল কলকাতা ও শহরতলি
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও লাগোয়া বাংলাদেশের উপর ঘূর্ণাবর্ত। তার পাশাপাশি নিম্নচাপ অক্ষরেখার অবস্থান। এই দুই প্রভাবে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে কলকাতা ও শহরতলির বহু জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। জেলাতেও হয় বর্ষণ। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে কমবেশি বৃষ্টি চলবে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। বর্ষা এখন সক্রিয় রাজ্যে। তার উপর ঘূর্ণাবর্ত। জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের উপরের অংশে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি হবে। শনি ও রবিবার দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। সে কারণে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। দক্ষিণবঙ্গে কমলা সতর্কতা নেই। তবে ভারী বৃষ্টির (২৪ ঘন্টায় ৭০-১১০ মিমি) হলুদ সতর্কতা আছে বেশ কয়েকটি জেলায়। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলার কোথাও এক বা একাধিক দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর তাদের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ১৫-১৬ তারিখ নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। সেটি নিম্নচাপেও পরিণত হতে পারে। বর্ষার সময় সবমিলিয়ে বঙ্গোপসাগরে ১২টির মতো নিম্নচাপ তৈরি হয়। তার গতিপ্রকৃতির উপরই নির্ভর করে কোন জায়গায় কত পরিমাণ বৃষ্টি হবে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর থাকা ঘূর্ণাবর্তটি বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে আছে। সেটি নীচের স্তরে থাকলে আরও বেশি বৃষ্টি হত। মৌসুমী অক্ষরেখা রাজ্যের উপর থেকে কিছুটা সরেছে। তবে তার প্রভাব এখনও আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা ও হাওড়ায় বৃষ্টি হয়েছে ৭৩, ৩৬.৭ ও ৩৫.৩ মিলিমিটার। যা স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ৩৭১, ১৯৬ ও ৩১৫ শতাংশ বেশি। ঝড়-বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বহু জায়গা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। হাবড়ায় যশোর রোডে বট ও কাঁঠাল গাছ ভেঙে পড়ায় দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয় যান চলাচল। কলকাতার কৈখালির হলদিরামে সার্ভিস রোড জলে ডুবে যায়। একটি অ্যাপ ক্যাব প্রায় ডুবে যাওয়ার অবস্থায় রাস্তায় আটকে যায়। এয়ারপোর্ট থেকে চিনারপার্কে যাওয়ার আগে কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে যায়। কলকাতার মূল রাস্তাগুলি সেভাবে জলমগ্ন হয়নি। ভোর থেকে জল নামানোর কাজ শুরু করে পুরসভা। শুক্রবার অল্প জল জমে কলেজ স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিটে। গাছ ভেঙে পড়ে বিপত্তি দেখা দেয় স্ট্র্যান্ড রোডে। এসবিআই’য়ের সামনে একটি বড়ো গাছ ভেঙে গোটা রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। গাছ কেটে অবস্থা সামাল দেয় পুরসভা। বিভিন্ন হাসপাতালের ভিতরও জল জমে যায়। অলিগলিতেও জমে জল। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ, বাগদা সহ এই মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। হুগলিতেও দিনভর বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি। সকালে চুঁচুড়ায় ব্যাপক বৃষ্টি হয়। নিচু এলাকায় জল জমে। শ্রীরামপুর, বৈদ্যবাটিতেও জল জমে। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুর এলাকায় বৃষ্টির পর এখনও অনেক এলাকায় জমে রয়েছে জল। শুক্রবার পাম্প চালিয়ে জল নামানোর কাজ হয়েছে। অন্যদিকে শুক্রবার সকাল থেকে হাওড়ার বেলগাছিয়া, বেলুড় স্টেশন রোড, রামরাজাতলা, দাশনগর, মধ্য ও উত্তর হাওড়া সহ নানা এলাকায় হাঁটু সমান জল জমে রাস্তায়। এর ফলে জনজীবন আংশিক বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ