শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম ধুইয়ে দিচ্ছে সবুজ-মেরুন আলো। ঘড়ির কাঁটায় সন্ধ্যা ৬-৪৫। বৃষ্টি মাথায় মোহন বাগান দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির প্যানাজিওটিস ডিস্পেরিস। গ্রিক কোচের সঙ্গেই এলেন আলবার্তো ও লিস্টন কোলাসো। ‘জয় মোহন বাগান’ স্লোগানে কানে তালা ধরার জোগাড়। মনে হতে বাধ্য, এই বোধহয় লিস্টনরা গোল করে এলেন। ডুরান্ডের ডার্বি জিতেছে মোহন বাগান। কলকাতায় কোচ পানোসের স্বপ্নের অভিষেক। এমন মঞ্চেই কোচের কাছে আইএসএল জেতায় আবদার ছুড়ে দিলেন মোহন বাগান সভাপতি। মুচকি হাসি পানোসের। হাততালি, গর্জন যেন আছড়ে পড়ল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর তাঁবুতে।
২৯ জুলাই মোহন বাগান দিবসের উদ্বোধন। একদিন পর পুরস্কার বিতরণীর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কর্তারা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঙ্গীত পরিবেশনে সুর বেঁধে দিলেন জয়তী চক্রবর্তী। এরপর স্রেফ মেরুন-সবুজে ভেসে যাওয়া। গত বছরের সেরা ফরোয়ার্ড লিস্টন কোলাসো। বললেন, ‘মোহন বাগানই দেশের সেরা ক্লাব।’ ডুরান্ড জিতবে তো? লাজুক লিস্টনের মন্তব্য, ‘হোগা হোগা।’ দীর্ঘকায় আলবার্তো আর কোচ পানোসও উচ্ছ্বসিত। সেরা যুব প্রতিভার পুরস্কার পেলেন সুহেল ভাট। কাশ্মীরি তরুণের আত্মবিশ্বাস নিশ্চয়ই বাড়বে। তবে সুহেলের বোঝা উচিত, জুনিয়র হয়ে থাকার দিন শেষ। এবার সিনিয়র দলেও নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। ঢাউস মঞ্চে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও উপস্থিত। আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় জীবনকৃতি পুরস্কার প্রদানের সময়। প্রাক্তন গোলরক্ষক প্রতাপ ঘোষের সঙ্গেই সত্যজিৎ চ্যাটার্জি, মানস ভট্টাচার্যরা মঞ্চে এলেন। গর্বিত প্রতাপের মন্তব্য, ‘এমন দিনে সদস্য, সমর্থক ও কর্তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই।’ ক্রিকেটে অনুষ্টুপ মজুমদার, অ্যাথলিট তাহিরা খাতুনকেও সম্মানিত করা হল। প্রাক্তন রেফারি সাগর সেন অসুস্থ। সম্মান গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী। সেরা সমর্থকের পুরস্কার পেলেন সৌরভ ঘোষ চক্রবর্তী ও রাজীব রায়।
শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের প্রাক্তন সচিব প্রয়াত অঞ্জন মিত্রকে মরণোত্তর মোহন বাগান রত্ন সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ক্লাব কমিটি। আসলে মোহন বাগান দিবস পালনের পরিকল্পনা অঞ্জনেরই ব্রেনচাইল্ড। ১৯১১ সালে ২৯ জুলাই ব্রিটিশ ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে পরাস্ত করে ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন শিবদাস, বিজয়দাসরা। পরবর্তীতে ইতিহাসের পাতায় তা স্থান পায়। এরপর আবহমান মোহন বাগান এগিয়েছে আপন গতিতে, নিজের ছন্দে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা রত্ন সম্মান গ্রহণ করেন। এদিন ক্রীড়ামন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, ফেডারেশন সভাপতি ছাড়াও গেরুয়া শিবিরের একঝাঁক নেতা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। কয়েক মাস আগেও দুই ক্লাবের অনুষ্ঠানে দেখা যেত ঘাসফুলের দাপট। মনে পড়ছে মোহন বাগানের প্রাক্তন সচিব অঞ্জন মিত্রের সেই উক্তি, ‘ময়দানে কোনোকিছুই স্ট্যাটিক নয়।’