Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ফায়দা লুটছে মোদি-শাহের আমেদাবাদ, ভারতের ম্যাচ বণ্টনেও বাংলার সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ স্পষ্ট

বঙ্গবাসীর সঙ্গে মোদি সরকারের বঞ্চনা নতুন নয়। বরাদ্দ অর্থ আটকে রাখা হোক কিংবা প্রকল্প রূপায়ণ— বরাবরই দুয়োরানির মতোই আচরণ করা হয়েছে বাংলার সঙ্গে।

ফায়দা লুটছে মোদি-শাহের আমেদাবাদ, ভারতের ম্যাচ বণ্টনেও বাংলার সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ স্পষ্ট
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গবাসীর সঙ্গে মোদি সরকারের বঞ্চনা নতুন নয়। বরাদ্দ অর্থ আটকে রাখা হোক কিংবা প্রকল্প রূপায়ণ— বরাবরই দুয়োরানির মতোই আচরণ করা হয়েছে বাংলার সঙ্গে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের ম্যাচ বণ্টনেও সেই ধারা অব্যাহত। ২০২৬-২৭ মরশুমে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় টিম ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াসূচি ঘোষণা করছে বিসিসিআই। এই সময়কালে ভারত সফরে আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবোয়ে এবং অস্ট্রেলিয়া। সবমিলিয়ে ১৭টি শহরে হবে ন’টি ওয়ান ডে, আটটি টি-২০ এবং পাঁচটি টেস্ট ম্যাচ। প্রকাশিত সূচিতে দেখা যাচ্ছে, ইডেনের প্রাপ্তি একটি মাত্র ওয়ান ডে। আর সেটাও অত্যন্ত কম গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ, যেখানে ভারতের প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে। খেলাটি হবে আগামী বছরের শুরুতে। পক্ষান্তরে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন করবে। রাঁচি, গুয়াহাটির পাশাপাশি আমেদাবাদেও হবে দু’টি করে ম্যাচ। কেউ প্রশ্ন তুলতেই পারেন, বিসিসিআইয়ের ম্যাচ বণ্টনের সঙ্গে রাজনীতির কী যোগ?

Advertisement

একটু গভীরে গেলেই বোঝা যাবে, ভারতীয় ক্রিকেটে গত কয়েক বছরে কীভাবে প্রবল গৈরিকীকরণ ঘটেছে। তার জলজ্যান্ত উদাহরণ জয় শাহ। বাবা অমিত শাহর নাম ভাঙিয়ে প্রথমে বোর্ড সচিব, তারপর বোর্ড সভাপতি হন। সেখান থেকে সটান বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মসনদে। আইসিসি’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিসিসিআইয়ের সচিব পদে তিনি বসিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আইনজীবী দেবজিৎ সাইকিয়াকে। পরে মিঠুন মানহাসকে করা হয়েছে বিসিসিআই সভাপতি। এঁরা সকলেই কাঠের পুতুল। ক্রিকেট সার্কিটে কান পাতলে শোনা যায়, জয় শাহর কথাতেই এঁরা ওঠেন এবং বসেন। তাই বিশ্বকাপ হোক কিংবা দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ম্যাচ, এমনকী আইপিএলের ফাইনালও অন্য রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার থেকে ছিনিয়ে নিতে কুণ্ঠা বোধ করেন না জয় শাহর অনুগামীরা। 
অতীতে ম্যাচ বণ্টনের ক্ষেত্রে রোটেশন পদ্ধতি মানা হত। কিন্তু এখন তাঁরা সে সবের ধার ধারেন না। বোর্ড এখন বিরোধী শূন্য। তাই জয় শাহর অঙ্গুলিহেলনে পছন্দ মতো ম্যাচ পায় মোদি, অমিত শাহদের আমেদাবাদ। গত টি-২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি, ফাইনালও হয়েছিল মোতেরায়। সেই নিরিখে আসন্ন মরশুমে ভারতের কোনও ম্যাচই হওয়ার কথা নয় সেখানে। কিন্তু সূচিতে দেখা যাচ্ছে, ভারত-শ্রীলঙ্কা ওয়ান ডে এবং ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট হবে মোদির শহরে। আসলে দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে এখন একটাই স্লোগান, জোর যার মুলুক তার!

সম্পর্কিত সংবাদ