


নয়াদিল্লি: মোদি সরকারের আশ্বাসই সার! দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস নিয়ে সমস্যা পিছু ছাড়ছে না। ডিস্ট্রিবিউটারদের দরজার গ্রাহকদের লম্বা লাইন। বুকিংয়ের পরও অনেকে গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। ফলে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে বুকিং ঘিরে অশান্তির খবর মিলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হচ্ছে পুলিশকেও।বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহে টানের ফলে হোটেল-রেস্তরাঁগুলি সমস্যার মুখে। এই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে মোদি সরকার। তারা জানিয়েছে, শর্তসাপেক্ষে রাজ্যগুলিকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত বাণিজ্যিক সিলিন্ডার দেওয়া হবে। কিন্তু, কী সেই শর্ত? মোদি সরকারের বক্তব্য, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহে রাজ্যগুলিকে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা করতে হবে। তাহলেই সরকার বাড়তি সিলিন্ডার পাঠাবে। এরমধ্যেই জানা গিয়েছে, সিলিন্ডার পেতে সমস্যা হওয়ায় ই-কমার্স সংস্থা আমাজনে রেডি টু ইট ও প্যাকেজড খাদ্যের চাহিদা হু হু করে বাড়ছে।
এরইমধ্যে মঙ্গলবার সিলিন্ডার সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে গ্রাহকদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ। জানা গিয়েছে, ঘুঘলি থানা এলাকায় গ্যাস বুকিংকে কেন্দ্র করে প্রথমে দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তা হাতাহাতিতে পৌঁছে যায়। সিলিন্ডার সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের বাঁশ, ব্যাট দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। অন্যান্য গ্রাহকরা প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে যায়। খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। থানার হাউস অফিসার গৌরব সিং জানিয়েছেন, দু’পক্ষের ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। সিলিন্ডারের ঘাটতির মধ্যে অবৈধ কারবারের অভিযোগও উঠেছে। বুধবার দিল্লি পুলিস রাজপুর খুর্দের একটি বেআইনি গোডাউনে হানা দিয়েছিল। সেখান থেকে ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে ২২৩টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বারাণসীতে বাথরুম থেকেও সিলিন্ডার উদ্ধারের খবর মিলেছে। রাজস্থানের একটি গোশালাতে বেআইনিভাবে সিলিন্ডার জমা রাখা হচ্ছিল। সেখানে হানা দিয়ে ২০১টি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার উদ্ধার করেছে কোটপুতলি-বেহরোর জেলার পুলিশ। এদিকে, গ্যাস-ঘাটতির প্রতিবাদে আগামী ২৩ মার্চ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কেরলের হোটেল ও রেস্তরাঁ অ্যাসোসিয়েশন।