নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ঐতিহ্যবাহী কার্তিক পুজোকে কেন্দ্র করে থিমের অভিনব সজ্জায় সাজতে শুরু করেছে বাঁশবেড়িয়া। এবার পুজোর সংখ্যা প্রায় একশো ছুঁই ছুঁই। অধিকাংশই বিগ বাজেটের পুজো। যদিও শুধু বড়ো বা ছোটো নয়, বর্তমানে পুজো মানেই থিমের দাপট অকৃত্রিম সত্য হয়ে উঠেছে। অভিনব থিমের বাহারের সঙ্গে আরও একটি মজা আছে। নামে কার্তিক পুজো হলেও একগুচ্ছ দেবদেবীর পুজো হয় বাঁশবেড়িয়ায়। সেই তালিকায় শিব থেকে কালী, চণ্ডী, রাধা-কৃষ্ণ, নারায়ণ, এমনকি হনুমান এবং ভারতমাতাও বাদ যান না। এমনই বাহারি পুজোর আয়োজনের সঙ্গে নানা আঙ্গিকের থিমের সজ্জায় ইতিমধ্যেই প্রাচীন বংশবাটির পুরনো মহল্লায় রঙের পরত লেগেছে।
বাঁশবেড়িয়ার অনির্বাণ ক্লাবের এবারের কার্তিক পুজো ৬০ বছরে পা দিয়েছে। ক্লাবের থিম উত্তরণ। যানবাহন থেকে চিঠি পাঠানো বা সামাজিক যোগাযোগ, প্রস্তর যুগ পেরিয়ে এখন ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রবেশ করেছে। এই বিবর্তনকেই থিমে ধরা হয়েছে। মণ্ডপসজ্জায় উঠে এসেছে কবুতরের পায়ে চিঠি বেঁধে ওড়ানোর সময় থেকে বর্তমানের সমাজমাধ্যমের পথ পাড়ি দেওয়ার ভাবনা। থাকছে রেলের স্টিম ইঞ্জিন থেকে বুলেট ইঞ্জিনের উঠে আসার পর্ব। ইতিহাসের পরোক্ষ সাক্ষী হওয়াই শুধু নয়, প্রত্যক্ষ সাক্ষীও হতে পারবেন দর্শকরা। আয়োজকরা মণ্ডপ পর্যন্ত দর্শকদের নিয়ে যাবেন মডেল ট্রেনে করে। আর মণ্ডপে গিয়ে দর্শক দেখবেন সাবেক কলকাতার হাতে টানা রিকশ। থিমের অনুসরণেই সাজানো হয়েছে আলোক সম্ভার। তাও চোখ ধাঁধিয়ে দেবে। আয়োজকরা জামাই কার্তিকের পুজো করেন। তাই দেব সেনাপতি কার্তিককে জামাই বেশে দেখতে পাবেন দর্শকরা। পুজো উদ্যোক্তা অমিত ঘোষ বলেন, সেই সাজেও থাকছে চমক। যোগাযোগ থেকে যানবাহন, মানব সভ্যতার বিবর্তনের দলিল আমরা মণ্ডপে পেশ করছি।
বাঁশবেড়িয়ার অন্যতম চর্চিত পুজোর আয়োজন করে কুণ্ডুগলি নটরাজ পুজো কমিটি। নামেই স্পষ্ট যে, আয়োজকরা নটরাজের পুজো করেন। তবে ক্লাবের থিম, প্রবাহিনী। সাবেক ভারতীয় নৃত্যকলা ভরতনাট্যমই এখানে থিমের আধার। একদা দেবালয়ের নৃত্য আঙ্গিক থেকে আম জনতার মাঝে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার ধারাকথন দেখা যাবে মণ্ডপসজ্জায়। ফাইবার থেকে মাটির মডেলে নানা নৃত্যমুদ্রা দেখাবেন উদ্যোক্তারা। সঙ্গে থাকবে লাইভ ভরতনাট্যম। পুজোর উদ্যোক্তা অলোক সাহা বলেন, দেবাদিদেব নিজেও নৃত্যকুশল দেবতা। আমরা তাঁকেও নৃতরত অবস্থায় পেশ করব।
নবঅঙ্কুর নামের থিমে জীবন্ত গাছের মহল বানিয়ে বসেছে বলাকা সংঘ। প্রায় ছ’হাজার গাছের অভিনব বিন্যাস দেখা যাবে মণ্ডপে। থাকবে জলপদ্ম থেকে শালুকে ভরা জলাশয়। নারায়ণ পুজো হয় ক্লাবে। সেই পুজো পা দিয়েছে ৬০ বছরে। পুজোর উদ্যোক্তা চন্দ্রনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, জীবন্ত গাছের মণ্ডপের সঙ্গে থিমের অনুকরণে চোখজুড়ানো আলোকসজ্জা করা হয়েছে। মোহিত হবেন দর্শকরা।
পুজোর বাকি আর কয়েকটি দিন। ইতিমধ্যেই ভোল বদলে ফেলেছে বাঁশবেড়িয়া। প্রশাসনিক প্রস্তুতির সঙ্গে পুজোর আয়োজন চলছে দ্রুতগতিতে।