Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়নার চণ্ডীয়া নদীতে বধূর দেহ উদ্ধারে হাড়হিম করা তথ্য, শ্বাসরোধ করে খুন, মাথা ও ধড় কেটে বস্তায় ভরে স্বামী

ময়নার চণ্ডীয়া নদীতে বধূর দেহ উদ্ধারে হাড়হিম করা তথ্য, শ্বাসরোধ করে খুন, মাথা ও ধড় কেটে বস্তায় ভরে স্বামী
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাড়িতেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল ময়নার গৃহবধূ শেফালি বর্মনকে। তারপর বাড়ি লাগোয়া পুকুরপাড়ে শাবল দিয়ে ধড় ও মুণ্ড আলাদা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৮০০মিটার দূরে চণ্ডীয়া নদীর ধারে মাথা পুঁতে দেওয়া হয়। রাতের অন্ধকারে দেহ একটি বস্তায় ঢুকিয়ে সাইকেলে বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়ে বাড়িতে এসে কম্বল জড়িয়ে শুয়ে পড়েছিল শেফালির স্বামী পবিত্র বর্মণ। মঙ্গলবার ধৃত পবিত্রকে নিয়ে খুনের ঘটনায় পুনর্নির্মাণ করে ময়না থানার পুলিস। কীভাবে খুন করা হয়েছিল, কোথায় দেহ ও মাথা আলাদা করা হয়, কীভাবে মাথা ও দেহ দু’জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সবটাই দেখায় ধৃত পবিত্র। গোটা ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করে পুলিস। খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে প্রচুর মানুষ ভিড় জমান।
Advertisement
গত ১৯জানুয়ারি ময়না থানার রায়চক গ্রামে বস্তাবন্দি গৃহবধূর দেহ উদ্ধার হয়। ২৪জানুয়ারি রাতে ওই ঘটনায় রহস্য‌঩ভেদ করে পুলিস। মৃত যুবতীর নাম পরিচয় জানা যায়। ওই ঘটনায় শেফালির স্বামী পবিত্রকে আড়ংকিয়ারানা গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পবিত্র আন্দামানে কাজ করত। ধৃত যুবক স্ত্রীর উপর অত্যাচার চালাত বলে অভিযোগ। এমনকী, তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে সহবাস করার জন্য স্ত্রীকে চাপ দিত বলেও অভিযোগ। এনিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা চলত। এই অবস্থায় ভগবানপুর থানার বুড়াবুড়ি গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে শেফালি ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ান। যুবকের সঙ্গে সংসার করার বাসনায় তিন মাস আগে স্বামীর ঘর থেকে বেরিয়ে যান। স্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে হিংস্র হয়ে ওঠে পবিত্র। আন্দামান থেকে ফিরে বদলা নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ১২জানুয়ারি ভগবানপুরে স্ত্রীর প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছে যায় সে। সেখান থেকে শেফালিকে মারধর করে জোর করে তুলে আনে। সেই রাতে নৃশংসভাবে খুন করা হয়।
যুবতীর বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধারের পর তাঁর পরিচয় বের করতে গিয়ে হিমশিম খায় পুলিস। উদ্ধার হওয়া দেহের সঙ্গে ব্লাউজে থাকা একটি দোকানের নাম ছিল। সেই দোকানে হাজির হয়েও কিনারা করতে পারছিল না পুলিস। ওই দোকানদার জানান, ময়না, ভগবানপুর, সবং এবং পিংলা এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় তাদের দোকান থেকে ব্লাউজ সরবরাহ করা হয়। এরপর এই চারটি থানা এলাকায় নিখোঁ‌জ থাকা যুবতীর তালিকা খোঁজা হয়। তাতেও কোনও ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর মিসিং থাকা সত্ত্বেও থানায় রিপোর্ট না হওয়া যুবতীদের সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু হয়। সেই সূত্র মারফত সবং থানার দুবরাজপুর গ্রামের শেফালি বর্মনের নিখোঁজ থাকার বিষয় জানা যায়। পুলিস শেফালির খোঁজে বুড়াবুড়ি গ্রামে তাঁর প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছে যায়। কিন্তু, প্রেমিক থানায় এসে পচে ফুলে যাওয়া মুণ্ডহীন দেহ দেখে জানায়, সেটি শেফালির দেহ নয়। শেফালির স্বামী পবিত্রের বাড়িতেও হাজির হয় পুলিস। সেখানে পৌঁছে পুলিস একটি ভিডিও জোগাড় করে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, স্ত্রী তিন মাস আগে প্রেমিকের বাড়িতে চলে যাওয়ায় রাগে তাঁর ভোটারকার্ড, আধারকার্ড, কাপড়চোপড় সব জ্বালিয়ে দিচ্ছে পবিত্র। অর্থাৎ পবিত্র ভীষণ হিংস্র প্রকৃতির বলে জানতে পারে পুলিস। এরপর শেফালির দেহের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ব্লাউজের লোগো ও সাইজের সূত্র ধরে ভগবানপুর থানার বুড়াবুড়ি গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে থাকা পর পর চারটি ব্লাউজের সঙ্গে মিলে যায়। টানা জেরায় খুনের ঘটনা স্বীকার করে পবিত্র।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ