


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পুরসভার ভাঁড়ে মা ভবানি দশা। থমকে আছে উন্নয়নমূলক কাজ। বেতন পাচ্ছেন না অস্থায়ী কর্মীরা। সবমিলিয়ে বরানগর পুরসভার হাল মোটের উপর ভালো নয়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। বৃহস্পতিবার তিনি পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। শুক্রবারও বসেন আলোচনায়।
পরপর দু’দিন ম্যারাথন বৈঠকের পর পুরসভার হাঁড়ির হাল জেনে উদ্বিগ্ন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক। শুক্রবার তিনি বৈঠকে বলেছেন, ‘পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দ্রুত বৈঠকে বসার উদ্যোগ নিচ্ছি।’ পুরসভা সূত্রে খবর, বরানগরের উন্নয়নে আর্থিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে এবং বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে সজলবাবু পুরমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিধায়কের এই প্রতিশ্রুতি আশ্বস্ত করেছে বরানগরের বাসিন্দাদের এবং তৃণমূলের কাউন্সিলারদের একাংশকে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বরানগর পুরসভায় সাংসদ সৌগত রায়ের উপস্থিতিতে কাউন্সিলারদের সঙ্গে প্রায় তিনঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছিলেন সজলবাবু। তারপর শুক্রবারও বৈঠকে বসেন। এদিন দুপুর একটা থেকে তিনটে পর্যন্ত পুরসভার চেয়ারম্যান, সিআইসি ও আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখানে জঞ্জাল, পানীয় জল, নিকাশি, আলো সহ পুরসভার আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা পেনশন, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি সুবিধে পাচ্ছেন না কেন এই প্রশ্ন তোলেন সজলবাবু। অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে দিতে কি সমস্যা হচ্ছে জানতে চান। পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার সাফাইয়ের কাজে অস্থায়ী ৩০০ কর্মীর জন্য ১০০ দিনের টাকা দেয়। অথচ পুরসভায় কর্মী রয়েছেন প্রায় একহাজার। তাঁদের ৩৬৫ দিন কাজ করানো হচ্ছে। অন্যদিকে পুরসভার নিজস্ব ভাঁড়ার শূন্য। তাই এই সমস্যা হচ্ছে। আম্রুত প্রকল্পে পানীয় জলের দু’টি ওভারহেড রিজার্ভার তৈরির কেন্দ্রীয় বরাদ্দ এসে পৌঁছেছে। কিন্তু পুরসভার ম্যাচিং ফান্ড দেওয়ার টাকা নেই। তাই কাজ শুরু যাচ্ছে না। দু’টি রিজার্ভার তৈরি হলে সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।
এরপর সজলবাবু আলোর সমস্যা নিয়ে জানতে চান। কত পরিমাণ আলো মজুত আছে জিজ্ঞেস করেন। পুর কর্তৃপক্ষ জানায়, ৪০টি আলো মজুত আছে। তা শুনে হেসে ফেলেন বিধায়ক। বলেন, ‘৪০টি আলো নিয়ে একটি পুরসভা চলবে?’ পুরসভার তরফে তখন জানানো হয়, ‘ভোটের আগে সব আলো লাগানো হয়েছে।’ এরপর হাসির মাত্রা বাড়িয়ে কটাক্ষের সুরে সজল বলেন, ‘তাতেও বরানগরের আলোর এই দশা।’ এছাড়া প্রতিটি দপ্তরের পরিস্থিতি শোনার পর বহুবার তাঁকে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে খবর। পুর চেয়ারম্যান অপর্ণা মৌলিক বলেন, ‘পুরসভার দপ্তর ধরে ধরে আলোচনা হয়েছে। পুরমন্ত্রীর সঙ্গে উনি দ্রুত বৈঠকের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন। ওঁর উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে আমরা সমস্যার কথা জানাব।’