নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: একই পুরসভা। কিন্তু, বিল্ডিং প্ল্যান পাস করানোর জন্য পৃথক দু’টি প্ল্যান চালু ছিল। একটি বিধাননগর পুরসভার ‘বিএমসি প্ল্যান’, অপরটি দেবরাজ চক্রবর্তীর ‘টিএমসি প্ল্যান’! তাতেই নাকি কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন ধৃত দেবরাজ। এমনই অভিযোগ তুলেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। বিধায়কের দাবি, তিনি একা নন। এই চক্রে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার সহ অনেকেই যুক্ত। তদন্তেরও দাবি তুলেছেন বিধায়ক। এদিকে, সূত্রের খবর, দুর্নীতির শিকড়ের সন্ধানে বহু প্রশ্নে মুখ খুলছেন না দেবরাজ। একাধিক মোবাইল নম্বর নজরে এসেছে পুলিশের। সেগুলির সঙ্গে কী লেনদেন ছিল দেবরাজের, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তোলাবাজির অভিযোগে গত ১ জুলাই পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিধাননগরের মেয়র পারিষদ দেবরাজকে। তিনি এখন পুলিশ হেপাজতে। পালাবদলের পর দেবরাজকে নিয়ে বিধাননগর পুরসভার ৭ জন কাউন্সিলার গ্রেপ্তার হয়েছেন। দেবরাজ ঘনিষ্ট চার প্রাক্তন কাউন্সিলার আগেই গ্রেপ্তার হয়েছেন তোলাবাজির মামলায়। এখনও দেবরাজ ঘনিষ্ট কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলার বাইরে। এদের মধ্যে দেবরাজের সঙ্গেই একজনের নামে ২২ মে এফআইআর হয়ে রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, তাঁদের কয়েকজনকে শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে। সূত্রের খবর, দেবরাজের দুর্নীতির শিকড়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠদের কী যোগ, টাকার সূত্র কী কী এবং টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা হত, তা জানতে ঘনিষ্ট কয়েকজনকে জেরাও করবে সিট। পুরুলিয়ায় টাকা পাচারের অভিযোগ করেছেন, বিধায়ক। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় দেবরাজের কাছ থেকে একটিই ফোন উদ্ধার হয়েছে। তাতে একটি সিমকার্ড ছিল। নিজের নামে নয়। ওই সন্দেহভাজন কে, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কারণ, ওই সিমকার্ডের সূত্র ধরে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। প্রসঙ্গত, দেবরাজের দুর্নীতির সঙ্গে বিধাননগর পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ারের যোগ রয়েছে বলে কিছুদিন আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন বিধায়ক তরুণজ্যোতি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও বলেছিলেন। সে ব্যাপারে বিধায়ক বলেন, ওই ইঞ্জিনিয়ারের ছেলের সম্পত্তির বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে পুলিশকে। তাহলেই বেরিয়ে আসবে বিনিয়োগ করা অর্থের সন্ধান। দেবরাজের নিজস্ব টিএমসি প্ল্যান দিয়ে তিনি বহু দুর্নীতি করেছেন। বহু বেআইনি বহুতল বানিয়েছেন। সাধারণ মানুষ না জেনে কিনে বিপাকেও পড়েছেন। আস্তে আস্তে তাঁর আরও দুর্নীতি সামনে আসবে।