শচীন তেন্ডুলকর থেকে শুরু করে প্রয়াত যুবরানি ডায়ানা। লন্ডনের মাদাম তুসো জাদুঘরে রয়েছে বিখ্যাত ব্যক্তিদের অসংখ্য মোমের মূর্তি। দেখলে মনে হবে যেন জীবন্ত। অথচ একসময় মূলত মৃত ব্যক্তিদের মুখোশ (ডেথ মাস্ক) বানাতেন এই জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা মারি তুসো। বিশ্ববিখ্যাত এই ভাস্করের জীবন ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। মৃত ব্যক্তির রক্তাক্ত কাটা মুণ্ড সামনে রেখে তৈরি করতেন মুখোশ।
Advertisement
মারির জন্মের দু’মাস আগেই তার বাবার মৃত্যু হয়। একটু বড় হতেই মায়ের সঙ্গে স্ত্রাসবুর্গ থেকে সুইৎজারল্যান্ডের বার্নে চলে আসেন। সেখানে ফিলিপ কার্টিস নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গৃহ পরিচারিকার কাজ করতেন মারির মা। চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি মোমের ভাস্কর্য নির্মাণে সিদ্ধহস্ত ছিলেন কার্টিস। তাঁর কাছ থেকেই এই কাজ শেখেন মারি। ১৭৭৭ সালে ভলতেয়রের মোমের মূর্তি তৈরি করেন। এটাই মারির প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ। দেখতে দেখতে তৎকালীন ফরাসি রাজ পরিবারের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা তৈরি হয়। রাজ পরিবারের সঙ্গে এই নৈকট্যের কারণে ফরাসি বিপ্লবের সময় তিনি গ্রেপ্তারও হন। মুণ্ডচ্ছেদের সাজা পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে মারি মুক্তি পান। এরপর থেকেই শুরু হয় মৃত ব্যক্তিদের মুখোশ তৈরির কাজ। ষোড়শ লুই, মারি অঁতোয়ানেত, জঁ-পল মারাত থেকে শুরু করে ম্যাক্সিমিলিয়েন রোবসপিয়ের—ফরাসি বিপ্লবে নিহত বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির ডেথ মাস্ক বানিয়েছেন মারি। আত্মজীবনীতে এবিষয়ে শিল্পী বলেছেন, ‘মুণ্ডচ্ছেদের পরে সেই রক্তাক্ত মাথাগুলি হাঁটুতে রাখতাম। তারপর ধীরে ধীরে মাপ নিয়ে তৈরি করতাম মুখোশ।’ জঁ-পল মারাত খুন হওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন মারি। তখনও অভিযুক্তকে জেরা করছে পুলিস। মারাতের সেই মোমের মুখোশ দেখলে আজও ভয় পেতে হয়। বর্তমানে মাদাম তুসোর ‘চেম্বার অব হররস’-এ গেলেই মারির হাতে তৈরি একাধিক ডেথ মাস্কের দর্শন মিলবে। গতকাল ছিল এই কালজয়ী শিল্পীর জন্মবার্ষিকী।



