Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরিবর্তন যাত্রায় সেলফি তোলার হিড়িক, বিশৃঙ্খলার জেরে মঞ্চ ছাড়লেন মিঠুন

বাংলা জুড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র ডাক দিয়েছে গেরুয়া পার্টি। সেই কর্মসূচিতে কোথাও মাঠ ভরছে না। আবার কোথাও ফাঁকা চেয়ারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

পরিবর্তন যাত্রায় সেলফি তোলার হিড়িক, বিশৃঙ্খলার জেরে মঞ্চ ছাড়লেন মিঠুন
  • ৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বাংলা জুড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র ডাক দিয়েছে গেরুয়া পার্টি। সেই কর্মসূচিতে কোথাও মাঠ ভরছে না। আবার কোথাও ফাঁকা চেয়ারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। শনিবার বজবজের বাটা মোড়ে ‘পরিবর্তন’-এর কথা শোনাতে গিয়ে একরাশ বিরক্তি নিয়ে ফিরতে হল ‘মহাগুরু’কে। ‘ফাটাকেষ্ট’-র ছবির ডায়ালগে হাততালি পড়লেও বিজেপির নামাবলি মাখা বক্তৃতা শুনতে নারাজ মানুষের ছবি তোলার হুড়োহুড়ি, বিশৃঙ্খলায় মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হলেন মিঠুন চক্রবর্তী।  

Advertisement

এদিন মহেশতলা এলাকার বিজেপির কর্মকর্তারা তথা কর্মসূচির আয়োজকরা ‘মহাগুরু’কে দেখে সেলফি তোলার নেশায় বুঁদ হয়ে যান। তা দেখেই ছবি তুলতে এগিয়ে আসেন সভা শুনতে আসা হাতেগোনা বিজেপি সমর্থকরা। দলীয় বার্তা শুনতে আর মন নেই তাঁদের। গোটা  মঞ্চের চারপাশে এসে ছবি তোলার জন্য হামলে পড়েন সকলে। খানিকটা অসন্তোষ প্রকাশ করেই হাতে মাইক নিয়ে বাংলায় ‘পরিবর্তন’-এর কথা শোনানোর চেষ্টা করেন মিঠুন চক্রবর্তী। কিন্তু, তাতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি সাধারণ মানুষ। মঞ্চের সামনের অংশ দেখে একবারের জন্যও মনে হয়নি সেটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। বরং অভিনেতার সঙ্গে জলসার মতোই আচরণ শুরু করেন সাধারণ মানুষ। সেই বিশৃঙ্খলা আটকাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব তথা আয়োজকরা। মাত্র পাঁচ মিনিট মঞ্চে ছিলেন ‘মহাগুরু’। এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখে বিরক্ত হয়ে মঞ্চ ছেড়ে চলে যান তিনি। মুখে তখন তাঁর একরাশ বিরক্তি। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে মহেশতলার বিজেপি র আহ্বায়ক অসিত বাগ এবং মহিলা নেত্রী সবিতা চৌধুরী বলেন, অতি উৎসাহী দের ভিড়ে এমন হয়েছে। বিশৃঙ্খলা হয়নি। তবে মিঠুন চক্রবর্তীর শরীরটা খারাপ ছিল বলে দ্রুত চলে গিয়েছেন।
এদিন বারাকপুর মহকুমার একাধিক জায়গায় পরিবর্তন যাত্রার নামে বাইক মিছিলেন আয়জন করে বিজেপি। পুলিশের দাবি, কার্যত রাস্তা ‘দখল’ করে বাইক মিছিল করতে থাকে গেরুয়া কর্মী, সমর্থকরা। যার কোনো অনুমতি ছিল না। কাঁচরাপাড়া, নৈহাটি, খড়দহ বিভিন্ন জায়গাতেই সেই মিছিল আটকে দেওয়া হয়। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। বিজেপি কর্মীরা রাস্তায় বসে পড়েন। কিছুক্ষণের জন্য রাস্তা অবরোধ হয়। উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ অবরোধ তুলে দেয়। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে নির্দেশ দেওয়ার পরই পুলিশ তাদের আটকে দেয়। একইরকম নৈহাটির গৌরীপুরে বিজেপি’র বাইক মিছিল রুখে দেয় পুলিশ। খড়দহ স্টেশন রোডের সামনে খড়দহ ও টিটাগড় থানার পুলিশ যৌথভাবে ওই মিছিল আটকে দেয়। অন্যদিকে, পরিবর্তন যাত্রায় এসে রাজ্যকে রেলপ্রকল্প নিয়ে দুষলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অসহযোগিতা করছে। তারই জেরে রাজ্যে রেলপ্রকল্পের গতি শ্লথ হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ