Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিশন ছাব্বিশ, আগামীকাল বাঁকুড়া নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

আগামিকাল, শুক্রবার কলকাতায় বাঁকুড়ার তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মিশন ছাব্বিশ, আগামীকাল বাঁকুড়া নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: আগামিকাল, শুক্রবার কলকাতায় বাঁকুড়ার তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তৃণমূলের বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার নেতা-নেত্রীরা ডাক পেয়েছেন। বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার নেতারা একজোট থাকলেও বাঁকুড়ায় শাসক দলের অন্দরে ফাটল চওড়া হয়েছে। সেই বিষয়টি বৈঠকে উঠতে পারে বলে ঘাসফুল শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে সম্প্রতি বাঁকুড়া শহরে একটি মিছিল হয়। মূলত শহর তৃণমূলের উদ্যোগেই ওই কর্মসূচি পালিত হয়। সেখানে মঞ্চে পুরসভার কাউন্সিলারদের উঠতে না দেওয়ার ব্যাপারে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এমনিতেই বাঁকুড়া শহরে তৃণমূল সংগঠন দুর্বল রয়েছে। তারউপর ওই বিষয়টি তৃণমূলের দ্বন্দ্বকে আরও প্রকট করেছে। এছাড়াও কিছু ব্লক সভাপতি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের উপর ক্ষুব্ধ রয়েছেন। তার রেশ কলকাতার বৈঠক পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। ওইসব বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই দলের কাছে রিপোর্ট জমা পড়েছে। ফলে বৈঠকে অভিষেক কী বার্তা দেন, সেই দিকেই তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা তাকিয়ে রয়েছেন। 
তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান তথা বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুমদার বলেন, কাউন্সিলারদের মঞ্চে উঠতে না দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা একজোট হয়ে সংগঠনকে মজবুত করার জন্য লড়াই করছি। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলার বলেন, ওই কর্মসূচিতে লোক জড়ো করা থেকে শুরু করে প্রস্তুতির যাবতীয় কাজ আমরাই করেছি। জেলাস্তরের এক নেতা শেষ মুহূর্তে এসে ‘ক্ষীর’ খেয়েছেন। তিনিই মাইকে ঘোষণা করে কাউন্সিলারদের মঞ্চে উঠতে নিষেধ করেন। ঘটনায় আমরা অসম্মানিত হয়েছি। এই বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কান পর্যন্ত পৌঁছনো প্রয়োজন। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে আমরা শহরে পিছিয়ে রয়েছি। কাউন্সিলারদের এভাবে দলীয় কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ফল খুব একটা ভালো হবে না। 
বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার তরফে আমিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে ডাক পেয়েছি। 
দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশ মতো এলাকায় ফিরে বুথস্তরে কাজ করব। সকলে মিলে বিধানসভা নির্বাচনে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সবক’টি আসনে দলকে জিতিয়ে আনব। 
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া জেলার ১২টি আসনের মধ্যে গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল চারটিতে জয় পেয়েছিল। সেবার রাজ্যজুড়ে ঘাসফুল শিবির আশাতীত সাফল্য পেলেও বাঁকুড়ার লালমাটিতে তৃণমূলের বিজয় রথ আটকে যায়। শাসক দলের অশ্বমেধের ঘোড়া বাঁধা পড়ে যাওয়ার পিছনে দলের নেতাদের একাংশের কাজকর্ম দায়ী বলে কর্মীদের অভিযোগ। 
এবারও বাঁকুড়ার কয়েকজন তৃণমূল নেতার দাম্ভিক আচরণ ও সর্বত্র কাটমানি আদায়ের কারণে সংগঠনের ক্ষতি হচ্ছে। তালডাংরা সহ একাধিক ব্লকে তৃণমূল অঞ্চল সভাপতিরা এব্যাপারে সরব হয়েছেন। দলকে বাঁচাতে হলে ওই ধরনের নেতাদের কাজকর্মে রাশ টানা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করছেন।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ