


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রীসুরক্ষা নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে রেল। দার্জিলিং মেলের এসি কোচে ঢুকে এক যাত্রীর ব্যাগ নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতী। শনিবার ভোরে বর্ধমান স্টেশনে ঢোকার আগে ডাউন দার্জিলিং মেলের বি-১ কোচে এই ঘটনা ঘটেছে। ওই যাত্রীর দাবি, হঠাৎ এক দুষ্কৃতী কোচের মধ্যে ঢুকে পড়ে। কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয়। সেই সময় ট্রেনের গতি কম ছিল। সেই সুযোগে ওই দুষ্কৃতী ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। জিআরপি জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে, ওই দুষ্কৃতী কোথা থেকে ট্রেনে উঠেছিল, তা জিআরপির কাছে স্পষ্ট নয়। বর্ধমান স্টেশনে ঢোকার আগে ট্রেনটি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিল। সেই সুযোগে দুষ্কৃতী ট্রেনে উঠে থাকতে পারে।
জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার ডোমজুড়ের ১৯জন যাত্রী ওই কোচে ছিলেন। তাঁরা এনজিপি থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন। এসি কোচের ২০ নম্বর সিটে শ্যামলী সাহা নামে এক যাত্রী বসেছিলেন। তাঁর পাশেই ব্যাগ ছিল। দুষ্কৃতী তা তুলে নিয়ে দৌড় লাগায়। হঠাৎ করে এহেন ঘটনা ঘটায় যাত্রীরা প্রথমে বিষয়টি টের পাননি। তাছাড়া, ভোরের দিকে ঘটনা ঘটায় অনেকে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে ওই মহিলার চিৎকার শুনে তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। ততক্ষণে সে চম্পট দেয়। ব্যাগে নগদ টাকা ছাড়াও দামি মোবাইল ছিল বলে দাবি।
যাত্রীদের অভিযোগ, সংরক্ষিত কোচে নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন না। চিৎকার করেও লাভ হয়নি। তাছাড়া, এসি কোচের দরজা বন্ধ থাকার কথা। বাইরে থেকে খোলা যায় না। তারপরও ওই দুষ্কৃতী কীভাবে সংরক্ষিত কোচের দরজা খুলল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যাত্রীদের আরও অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেনের ভাড়া বাড়িয়েই চলছে। কিন্তু নিরাপত্তা বাড়েনি। সেই কারণে বারবার এধরনের ঘটনা ঘটছে। রেল জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর জিআরপি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জিআরপির এক আধিকারিক বলেন, ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। কোচের দরজা কে খুলেছিল বা ওই দুষ্কৃতী কোথা থেকে উঠেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এক আরপিএফ আধিকারিক বলেন, দার্জিলিং মেলের ওই কোচে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল জিআরপির। তাদের কাছ থেকে ইনপুট পাওয়ার পর দুষ্কৃতীর খোঁজে আরপিএফও তল্লাশি শুরু করেছে। যাত্রীদের আরও অভিযোগ, সাধারণ কামরায় চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। সংরক্ষিত কামরাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটায় রেলযাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে।