Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লুকিয়ে নাবালিকার বিয়ে দিলে কড়া পদক্ষেপ, বিবাহের সঙ্গে যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা করবে প্রশাসন

বাল্যবিবাহ বীরভূম জেলা প্রশাসনের কর্তাদের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতার পাঠ দিতে জেলা প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

লুকিয়ে নাবালিকার বিয়ে দিলে কড়া পদক্ষেপ, বিবাহের সঙ্গে যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা করবে প্রশাসন
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বাল্যবিবাহ বীরভূম জেলা প্রশাসনের কর্তাদের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতার পাঠ দিতে জেলা প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যদিও বাল্যবিবাহে দাঁড়ি টানা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের অলক্ষ্যেই প্রতিদিন বাল্যবিবাহের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে আর নয়, এবার প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে সেরে ফেললেও বিপদের শেষ থাকবে না। নাবালিকাকে বিয়ে দেওয়ার অপরাধে এবার থেকে বাবা ও মায়ের ঠাঁই হবে শ্রীঘরে। নিস্তার পাবে না স্বামী সহ শ্বশুর ও শাশুড়িও। নাবালিকাকে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করার অপরাধে জেলা প্রশাসন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা রুজু করবে। স্বতঃপ্রণোদিতভাবেই জেলা প্রশাসনের তরফে এই মামলা রুজু করা হবে। তবে এখানেই শেষ নয়, নাবালিকার বিয়ের ঘটনায় সরাসরিভাবে যুক্ত ব্যক্তিরাও ছাড় পাবেন না। জেলা প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। 

Advertisement

জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বাল্যবিবাহ রুখতে আমরা একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। যদিও বাল্যবিবাহের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিরতরে বাল্যবিবাহ রুখতে এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। গোপনে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি পরবর্তীতে যে কোনও সময় প্রকাশ্যে এলেই নাবালিকার বাবা, মা সহ স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা রুজু করা হবে। ইতিমধ্যে একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় পকসো ধারায় মামলা রুজুও করা হয়েছে। 
জেলার নানা প্রান্তে প্রায়শই নাবালিকাদের বিয়ে হচ্ছে। একপ্রকার জেলা প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখেই বহু পরিবার নাবালিকাদের বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চায়। দিনের পর দিন সেই সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। জেলা প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, যত সংখ্যক বিয়ে রোখা হচ্ছে, তার কয়েকগুণ বেশি নাবালিকা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। প্রথমে বিয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে না এলেও নাবালিকা সন্তানসম্ভবা হতেই সেই তথ্য সামনে চলে আসছে। এইসব ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কর্তারা যথেষ্টই উদ্বিগ্ন। কীভাবে বাল্যবিবাহে ইতি টানা যায়, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে চুলচেরা আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক এখনও পর্যন্ত শেষ সাতমাসে পকসো ধারায় তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে। 
কন্যাশ্রী, সবুজসাথী এমনকী রূপশ্রী প্রকল্পও বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ ভূমিকা নিতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে এবার জেলার প্রতিটি সংসদ এলাকায় নিবিড়ভাবে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বাল্যবিবাহ রোধের ক্ষেত্রে বিয়ের ঘটনায় জড়িত পুরোহিত, মৌলবী, নাপিত, ডেকরেটর সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, গোপনে নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরাসরিভাবে জড়িত থাকার অপরাধে পুরোহিত, মৌলবী থেকে শুরু করে সকলের বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন অনুসারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সুনির্দিষ্ট ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধেও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ