সংবাদদাতা, বালুরঘাট: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের কর্মসূচিতে যোগ দিলেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শিশুদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটালেন তিনি। শিশুরা শোনালো কবিতা। দেখালো নাচ। শিশুদের সঙ্গে বেশ খোশ মেজাজে দেখা যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। তিনি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মেঝেতে বসে শিশুদের সঙ্গে ভাত, আলুর ঝোল ও ডিম সেদ্ধ খেয়ে খাবারের মান যাচাই করেছেন। শুধু তাই নয়, খাওয়ার পরে নিজের প্লেট নিয়ে সোজা চলে যান কলপাড়ে। সেখানে সাবান দিয়ে নিজের প্লেট নিজেই মাজেন। এই ঘটনায বুধবার ব্যাপক শোরগোল পড়েছে বালুরঘাট শহরের লোকনাথ মন্দিরের পাশের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বেশিরভাগ অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার বেহাল অবস্থায় রয়েছে। তাই দ্রুত সেই সেন্টারগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও গ্যাস দেওয়ার বন্দোবস্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সুকান্ত বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিশুদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলাম। শিশুদের সঙ্গে খাবার খেয়েছি। খাবারের মান এখানে খুব ভালো। সব জায়গাতে খাবারের মান উন্নত করতে হবে। আমাদের জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৭০০ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। বেশিরভাগ ভাড়া বাড়িতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলছে। তাই জায়গা পেলে নিজস্ব ভবন করা হবে। পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে।
খাবারের প্লেট মাজা প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, এটা তো আমাদের অভ্যাসের মধ্যে রয়েছে। স্কুলে তো বাচ্চাদের নিজের কাজ নিজে করা শিখতে হয়। সকলকে এগুলি শিখতে হবে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে শুরু হয়েছে অঙ্গন মিলন সেবা কর্মসূচি। ওই কর্মসূচিতে শিশুদের নানা ধরনের খেলাধুলা থেকে শুরু করে পুষ্টি ও বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি শেখানো হচ্ছে। ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে মা ও শিশু মিলিয়ে প্রায় ৪৫ জন রয়েছে। ফলে ওই কেন্দ্রে এদিন কর্মসূচি নেওয়া হয়।
ওই কেন্দ্রের সুপারভাইজার ঝুমা দাস বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আজ আমাদের সেন্টারে এসেছিলেন। তিনি শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। খাবারের মান নিয়ে তিনি খুশি। তাই আমরাও খুশি।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৭০০ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। অধিকাংশ ভাড়া বাড়িতে চলছে। বেশিরভাগ জায়গাতে বিদ্যুত নেই। নিজস্ব ভবন থাকলেও তা বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। • নিজস্ব চিত্র।