


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা। কিংবা পাঠাগার থেকে আইসিটি (ইনফর্মেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি) ল্যাব। ছাত্রছাত্রীদের ন্যূনতম পরিকাঠামো প্রদানে শহরের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে দেশের গ্রামাঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলি। খোদ শিক্ষামন্ত্রকেরই সাম্প্রতিক একটি খতিয়ানে এবিষয় স্পষ্ট হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রকের খতিয়ান থেকে দেখা যাচ্ছে যে, গ্রামাঞ্চলে এখনও প্রায় ছয় শতাংশ সরকারি স্কুলে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। অথচ শহরাঞ্চলে এমন সরকারি স্কুলের হার দু’শতাংশেরও কম। একইভাবে গ্রামাঞ্চলের প্রায় সাত শতাংশ সরকারি বিদ্যালয়ে এখনও পাঠাগারের বন্দোবস্ত করে উঠতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। শহুরে এলাকায় এমন সরকারি স্কুলের হার পাঁচ শতাংশ। কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির উপর অত্যধিক জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগই না থাকায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচিই প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এক্ষেত্রে দেশের গ্রামাঞ্চলের হাল সবথেকে খারাপ। শিক্ষামন্ত্রকের খতিয়ান বলছে যে, গ্রামীণ এলাকার ৩৫.২ শতাংশ সরকারি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগই নেই। শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে এমন সরকারি স্কুলের হার ২৪.৪০ শতাংশ। আইসিটি ল্যাবের ক্ষেত্রেও গ্রামে এবং শহরে পরিস্থিতি তথৈবচ। এবং একইভাবে শহুরে এলাকার তুলনায় গ্রামাঞ্চলের সরকারি স্কুলে এর হাল আরও খারাপ। গ্রামীণ এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ সরকারি বিদ্যালয়েই ইনফর্মেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি ল্যাব নেই। শহরাঞ্চলে এই হার প্রায় ৪৭ শতাংশ। প্রসঙ্গত, স্কুলে ডিজিটাল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এহেন আইসিটি ল্যাবের গুরুত্ব অপরিসীম। অর্থাৎ, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকা যেমন। তেমনই সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে আইসিটি ল্যাব না থাকাও একইভাবে প্রমাণ করে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির অন্যতম ভিতই নড়বড়ে হয়ে রয়েছে। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের ইউডিআইএসই প্লাস (ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস) সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারেই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে শিক্ষামন্ত্রক।