


৫ এপ্রিল, ২০২৫। পঞ্চাশ বছরে পা দিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফ্ট। কম্পিউটার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে এই নাম। মাইক্রোসফ্টের তৈরি অপারেটিং সিস্টেম ‘উইন্ডোজ’-এর সঙ্গে পরিচিত আমরা সকলেই। একসময় আয়ের নিরিখে মাইক্রোসফ্ট ছিল পৃথিবীর বৃহত্তম সফ্টওয়্যার নির্মাতা সংস্থা। কিন্তু কীভাবে গড়ে উঠল মাইক্রোসফ্ট? এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দুই বন্ধুর নাম। বিল গেটস আর পল অ্যালেন। সাতের দশকে তখন গেটস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অ্যালেন ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের পড়ুয়া। বিশ্বজুড়ে ঢেউ উঠেছে নতুন প্রযুক্তির। গুরুত্ব বাড়ছে কম্পিউটারের। কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছে কম্পিউটার পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে। আর সেই সূত্রেই ব্যবসা শুরুর কথা ভাবলেন গেটস ও অ্যালেন। ১৯৭২ সালে তাঁরা ট্র্যাফ-ও-ডেটা নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন। মূলত গাড়ি চলাচলের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের একটি সফ্টওয়্যার তৈরি করেছিলেন। তা যে খুব ভালো কাজ করত, এমনটা নয়। ১৯৭৫ সালে হঠাৎই বাঁক এল দুই বন্ধুর জীবনে। রাস্তায় হাঁটার সময় অ্যালেনের চোখ পড়ে ‘পপুলার ইলেক্ট্রনিক্স’ পত্রিকার একটি সংখ্যায়। তাতে ‘এমআইটিএস’-এর তৈরি বিশ্বের প্রথম মাইক্রো-কম্পিউটার ‘অল্টওয়্যার ৮৮০০’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অ্যালেন সেটি পড়ে জানান গেটসকে। তাঁরা কম্পিউটারের জন্য একটি ‘প্রোগ্রামিং সফ্টওয়্যার’ বা ইন্টারপ্রেটার তৈরির পরিকল্পনা করেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। যোগাযোগ করলেন এমআইটিএসের সঙ্গে। নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কে তাঁরা সেই প্রোগ্রাম সফলভাবে প্রদর্শন করেন। এমআইটিএস এই ইন্টারপ্রেটার বণ্টনের দায়িত্ব নেয়। যার নাম হয় অল্টএয়ার বেসিক। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি গেটস ও অ্যালেনকে। ১৯৭৫ সালের ৪ এপ্রিল তৈরি হল মাইক্রোসফ্ট। মাইক্রো-কম্পিউটার আর সফ্টওয়্যার—এই দুই শব্দকে মিলিয়েই নতুন সংস্থার নাম দেওয়া হয়। এসবের মধ্যেই হার্ভার্ডের পড়াশোনা ছেড়ে দেন গেটস। ১৯৮০ সালে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের জগতে পা রাখে মাইক্রোসফ্ট। নাম এমএস-ডস। আইবিএমের সঙ্গে চুক্তির ফলে এমএস-ডস দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৮৫ সালে বাজারে আসে উইন্ডোজ ১.০। ২০২৪ সালের নিরিখে মাইক্রোসফ্টের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।