বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: মহেশতলা পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের আকড়া ব্রাহ্মণ পাড়ায় ৪৪ কাঠা সরকারি জমিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। রাজ্য সরকার দু’কিস্তিতে প্রায় এক কোটি টাকা দিয়েছে। সে টাকা পুর তহবিলে চলেও এসেছে। দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে। কিন্ত অভিযোগ, খেলার মাঠের নাম করে সরকারি ওই জমি দখলের ছক কষেছে বহিরাগত একটি চক্র। নানা কায়দায় বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ পুর প্রশাসনের। এর জেরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির কাজ থমকে যাচ্ছে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকদের মতামত বুঝতে গণ কনভেনশনের ডাক দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলর শুভ্রা চক্রবর্তী এই উদ্যোগ নিয়েছেন। বুধবার বিধায়ক দুলাল দাস তাতে অংশ নেন। সব মিলিয়ে চার হাজার নাগরিক যোগ দেন। বিধায়ক মতামত চাইলে উপস্থিত সকলে বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হোক এটাই দাবি। পাশাপাশি সরকারি এই জমিতে যেখানে সরকারি প্রকল্প হতে চলেছে সেখানে বহিরাগতদের এত দুঃসাহস হয় কি করে? এটা কোনওভাবে মানা যাবে না। নাগরিকরা বলেছেন, আকড়ার ভিতর ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় লক্ষ মানুষের মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার কোনও জায়গা নেই। সেদিক থেকে এখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র হলে এই ছ’টি ওয়ার্ডের মানুষ উপকৃত হবেন। ফলে প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা যাতে প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন হয়। মহেশতলা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল তাপস হালদার বলেন, ওই জমি পুরসভার। তার রেকর্ড আছে। অনেকদিন আগে তা কেনা হয়েছিল। এই জমি দেখেই সরকার এখানে অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছে। টাকা পাঠিয়েছে দু’কিস্তির। টেন্ডার হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওইখানে একটি ওভারহেড জলাধার তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। পুরসভা থেকে জমির বাউন্ডারি ওয়ালের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ। এই সময় একটি চক্র অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। বিধায়ক এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন। যাতে কোনও অযৌক্তিক আবদারকে মান্যতা দেওয়া না হয়। এখন প্রশাসনের কর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি দেখবেন। অন্যদিকে পুর নাগরিকদের ভিতর এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কারণ সরকারি জমিতে সরকারি প্রকল্পের কাজে যারা বাধা তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে কেন এখনও কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? এই প্রশ্ন উঠছে।



