দুর্গাপুজো মানেই শরতের হিমেল হাওয়া। কাশবন, শিউলি ফুলের গন্ধ— জানান দেয় মা আসছেন। কিন্তু মাঘ মাসে দুর্গাপুজো? শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই হয়ে থাকে কাটোয়ার আমুল গ্রামে। দুর্গারূপে দেবাসীন চণ্ডীমাতাকে পুজো করেন বাসিন্দারা। সরস্বতী পুজোর পর নবমী তিথিতে দেবাসীন চণ্ডীমাতার পুজো ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনি।
Advertisement
শোনা যায়, কাটোয়ার ২ ব্লকের সিঙ্গি পঞ্চায়েতের আমুল গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের হাত ধরেই এই পুজোর সূচনা। প্রায় ৩৫০ বছর আগেকার কথা। পাশের গ্রামে একটি দেবাসীন নামে একটি সেচ খাল থেকে তিনটি কূর্মাকৃতি প্রস্তরখণ্ড পান বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের এক সদস্য। সেই প্রস্তরখণ্ড গুলিকেই প্রথমে দেবী চণ্ডীরূপে পুজো শুরু করেন তিনি। পরে তাঁরই এক উত্তরপুরুষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে দুর্গারূপে দেবাসীন চণ্ডীমাতার পুজো শুরু করেন। প্রথমে এই পুজো পারিবারিক হলেও পরবর্তীতে সর্বজনীন রূপ পায়। প্রতিমাতেও আছে বৈশিষ্ট্য। দেবাসীন চণ্ডীমাতা দশভুজা হলেও তিনটি হাত বড় বাকি সাতটি হাত ছোট। মা দুর্গার আদলেই প্রতিমা তৈরি হয়। দেবীর বাহন হল ঘোড়া। এখন অবশ্য শিলাখণ্ডে নয়। মাটির প্রতিমা গড়ে পুজো হয়। একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পুজোয় প্রতিমার বিসর্জন হয় প্রতি চারবছর অন্তর। তাই প্রতি বছর এখানে বিজয়া হয় না। ষোড়শ উপাচারে দেবী পুজো পান। তবে পুজো চারদিনের পরিবর্তে একদিনেই সম্পন্ন হয়। দেবীর ভোগে থাকে মাগুর মাছ। পুজো উপলক্ষ্যে গ্রামজুড়ে মেলা বসে। নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কাটোয়ার দেবাসীন চণ্ডীমাতা পুজোও ব্যতিক্রমী একটি পুজো। পুজো একদিনের হলেও চারদিন ধরে শারদীয়া দুর্গোৎসবের আমেজ থাকে। গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা এই পুজোক ঘিরেই চারদিন ধরে আনন্দে থাকি। নতুন জামাকাপড় কিনি। এখানে বছরে দু’বার শারদীয়া।



