কানসাস সিটি: দেশের জার্সিতে ইতিমধ্যেই ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন লায়োনেল মেসি। ঝুলিতে ১২৫টি গোল ও একটি বিশ্বকাপ। দীর্ঘ কেরিয়ারে প্রায় বিশ্বের সব দেশের বিরুদ্ধেই তিনি জাল কাঁপিয়েছেন। তবে একটি দলের বিরুদ্ধে গোল তো দূরের কথা, কখনো ম্যাচই খেলেননি। নামটা শুনলে অনেকেই অবাক হবেন— ইংল্যান্ড। দীর্ঘ কেরিয়ারের সায়াহ্নে এসে অবশেষে থ্রি লায়ন্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন বাঁ পায়ের জাদুকর। তাও আবার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালের আসরে। স্বাভাবিকভাবেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমবার খেলতে নামার আগে বেশ উত্তেজিত এলএমটেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই বড় দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলাটা সবসময় স্পেশাল। তারউপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এটা আমার প্রথম ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা থাকবে। তবে এই নিয়ে খুব বেশি আবেগতাড়িত হতে চাই না। সেমি-ফাইনালের জন্য যেমন প্রস্তুতির প্রয়োজন, সেটাই করব।’
বিশ্বকাপের আসরে ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্তিনা দ্বৈরথ সবসময় আলাদা মাত্রা পেয়েছে। ফকল্যান্ড যুদ্ধ থেকে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ইতিহাস তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কাপযুদ্ধের লড়াইয়ে পাঁচবারের মধ্যে মাত্র দু’বার শেষ হাসি হেসেছে আলবেসিলেস্তেরা। ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালে প্রতিবারই নিজেদের চিরাচরিত নীল-সাদা জার্সির বদলে অ্যাওয়ে কিট পরে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্তিনা। কাকতালীয়ভাবে এবারও মেসিদের গায়ে থাকবে সেই ‘পয়া’ গাঢ় নীল জার্সি। তাই ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে এই খবর যেন আরও বেশি তাতাচ্ছে আর্জেন্তাইনদের। কোচ স্কালোনি অবশ্য এসবের আঁচ দলের উপর পড়তে দিতে নারাজ। তিনি জানেন, এই ইংল্যান্ডকে হারাতে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সকেও ছাপিয়ে যেতে হবে। সেই মতোই অনুশীলনে ছেলেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন। আর যাবতীয় স্ট্র্যাটেজির কেন্দ্রে মেসি।
এদিকে, শেষ চারের লড়াইয়ে নামার আগে ফুটবলারদের ক্লান্তি চিন্তায় রাখছে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুচেলকে। চলতি বিশ্বকাপে মোট ১৪ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করেছেন হ্যারি কেনরা। আর কোনো দলকে এত বেশি বিমানযাত্রার ধকল সইতে হয়নি। তাই আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে মর্যাদার লড়াইয়ের আগে ফুটবলারদের তরতাজা রাখাই মূল লক্ষ্য কোচ টুচেলের।