Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

গোলের বিশ্বরেকর্ড মেসির, ঘাড়ে নিঃশ্বাস এমবাপেরও

মেসি বিশ্বকাপে ১৮টি গোল করে পেলেকে স্পর্শ করলেন। এমবাপে তাঁকে তাড়া করছেন। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। বিস্তারিত পড়ুন।

গোলের বিশ্বরেকর্ড মেসির, ঘাড়ে নিঃশ্বাস এমবাপেরও
  • ২৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ডালাসের ডাউনটাউনে ম্যাগনোলিয়া হোটেল। ২১ তলার ছাদে লাল নিয়ন সাইনের একটি ঘোড়া শহরের দিক নির্দেশে ব্যস্ত। গ্রিক পুরাণে এই ঘোড়াটিরই নাম পেগাসাস। তবে সেখানে তার রং সাদা। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, অতীতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা আগন্তুকরা এই ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দ শুনে ডালাসকে খুঁজে নিতেন। সোমবার থেকে সেই শহর মেতেছে লিও মেসির পদধ্বনিতে। নীল-সাদায় মোড়া শহরে তিনিই হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা। ২৪ জুন যে তাঁর জন্মদিন। কেক কাটা হবে শিবিরে। আর সেলিব্রেশন দুনিয়াজুড়ে। প্রথম ২ ম্যাচে পাঁচ গোল। সবমিলিয়ে ১৮। ফুটবলসম্রাট পেলেকে স্পর্শ করার স্পর্ধা তাই শুধু তাঁকেই মানায়। টানা দু’টি বিশ্বকাপ জয়ের দিকে এগচ্ছে আর্জেন্তিনা। আর সমর্থকরা ভাসছেন স্বপ্নালু আবেশে। 

Advertisement

মঙ্গলবার ব্রেকফাস্ট সেরে আর্জেন্তাইনরা হাজির ডিলি প্লাজায়। ১৯৬৩’র ২২ নভেম্বর এখানেই হত্যা করা হয়েছিল জন এফ কেনেডিকে। ঐতিহাসিক বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে তুলতেই মারিও বলছিলেন, ‘এবার মেসির চাপ কম। তাই ওকে আরও ক্ষুরধার মনে হচ্ছে। এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে সোনালি কাপ আবার আর্জেন্তিনায় যাচ্ছে।’ ঠিকই বলেছেন মারিও। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিসের পরেও যেভাবে বাঁ পায়ের জাদুকর জোড়া গোল করেছেন তার জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। সাধারণত স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলে ফুটবলারের উপর চাপ বাড়ে। কিন্তু মেসি যে অন্য ধাতুতে গড়া। চাপকে তিনি অনাবিল আনন্দের সিন্দুকে দিব্যি তালা দিয়ে রাখতে পারেন। 
অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক যথেষ্ট অভিজ্ঞ। তাই চার ডিফেন্ডারের সামনে দুই ব্লকারকে তিনি ব্যবহার করেন। কিন্তু মেসিকে রোখার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। পরপর দু’বার জাল কাঁপিয়ে মেসি পৌঁছে গেলেন বিশ্বকাপে গোলদাতাদের শীর্ষে। 
পেগাসাসের শহর থেকে ফিলাডেলফিয়ার দূরত্ব ১৪৬৫ মাইল। আর সেখানেই মেসিকে তাড়া করে চলেছেন কিলিয়ান এমবাপে। তিনটি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত ১৬টি লক্ষ্যভেদ। পিছনে ফেলেছেন জ্যঁ ফতেঁ, গার্ড মুলার ও রোনাল্ডোর মতো কিংবদন্তিকে। এমবাপের জোড়া গোলে ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে হারাল ফ্রান্স। মাঠে তাঁর বিচরণ দানবের মতো। বিপক্ষ ভুল করলেই শাস্তি অনিবার্য। ছেলেবেলায় ভাইয়ের কাছে ফিফা গেমসে হারতেন এমবাপে। মন খারাপের বিকালগুলোয় ভরসা ছিল ফুটবল। মাঠে তার বদলা নিয়ে শান্ত হতেন। তিনিই এখন দেশঁ-ব্রিগেডের স্বপ্নের সওদাগর।
মেসির শান্ত প্রজ্ঞার আলো নাকি এমবাপের বিদ্যুতের ঝলকানি? শেষ পর্যন্ত কে কাকে হার মানাবেন? কাউন্টডাউন শুরু।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ