Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতি

ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতি
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দার্জিলিংয়ের ছোট্ট পাহাড়ি এলাকা মুর্দ্দাহাটি। মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরির মাঝে ইতিহাস আঁকড়ে রয়েছে এই বৌদ্ধ-হিন্দু শ্মশান। এখানেই ভগিনী নিবেদিতাকে তাঁর ইচ্ছা অনুসারে হিন্দুমতে দাহ করা হয়েছিল। পরে ১৯২৫ সালে রামকৃষ্ণদেবের মন্ত্র শিষ্য স্বামী অভেদানন্দর উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতিস্তম্ভ। সেখানে শোভা পাচ্ছে তাঁর একটি মূর্তিও। কাচ দিয়ে মোড়া স্মৃতিস্তম্ভ। ‘দার্জিলিং- এ নিবেদিতা ও রামকৃষ্ণ মিশন’ গ্রন্থে স্বামী অচ্যুতানন্দ লিখেছেন ,‘দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার সময়ে চকবাজারের পথে বাটা মোড়.....নৃপেন্দ্রনারায়ণ হিন্দু হল (যেখানে ১৮৯৮ সালে ৩ এপ্রিল সম্ভবত স্বামী বিবেকানন্দ ভাষণ দিয়ে ছিলেন এবং বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ১৬ অক্টোবর ১৯০৫ সালে ভগিনী নিবেদিতা ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ভাষণ দেন) ..... বোটানিক্যাল গার্ডেন ও দার্জিলিং সংশোধনাগারের পাশ দিয়ে.. কিংবা বাটা মোড় ছেড়ে একটু এগোলে যেখান থেকে শিলিগুড়ি যাওয়া ও আসার রাস্তার মোড় রয়েছে সেখান থেকে নিচু দিকে পুরানো মাল বহনকারী রোপওয়ের নিচ দিয়ে বুচার বস্তি হয়ে মুর্দ্দাহাটি শ্মশানে যাওয়া যায়। সেখানে আশ্রমের চেষ্টায় সুচারুরূপে মেরামত ও সামান্য সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে।’ ওই গ্রন্থে লেখা হয়েছে, ‘দার্জিলিং লেবং কার্ট রোডে ‘রায় ভিলা’য় ১৯১১ সালে ১ অক্টোবর থেকে নিবেদিতা রক্তামাশয় রোগে আক্রান্ত হন। এরফলে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ১৩ অক্টোবর এই বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এরপর তাঁর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ওই শ্মশান ভূমিতে। রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ নতমস্তকে নিবেদিতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। শবযাত্রা যখন শ্মশানে হাজির হয়েছিল, তখন বেলা বাজে চারটে।’ ওই ঐতিহাসিক গ্রন্থে লেখা হয়েছে –‘মৃতদেহের মস্তক ও মুখ পবিত্র গঙ্গা জলে ধুয়ে সর্বাঙ্গে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ‘হরিবোল’ ধ্বনিসহ শবদেহ উত্তর শিয়র করে চিতায় শোয়ানো হলো। তখন ৪টা ১৫। রামকৃষ্ণ মিশনের ব্রহ্মচারী গণেন্দ্রনাথ শেষ সময় এসে পৌঁছেছিলেন। তিনি মুখাগ্নি ক্রিয়া সম্পন্ন করলেন। চিতা জ্বলে উঠল। ধীরে ধীরে নশ্বর দেহ ভস্মীভূত হলো।› হিমালয়ের নির্জন ক্রোড়ে শীতল শৈল শহরের এই শ্মশানে আজও পর্যটকরা ধূপ-বাতি জ্বেলে ভগিনী নিবেদিতার এই স্মৃতি বেদিতে শ্রদ্ধা জানান ।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ