নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মেডিক্যাল ইনস্যুরেন্স পলিসি রিনিউয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন স্কিমের সুবিধা পাওয়ার টোপে পা দিয়ে সব মিলিয়ে ৩৩ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট এলাকার বাসিন্দা মানসকুমার দাস। সব লেনদেনই হয়েছিল অনলাইনে। এমনকী, প্রতারক দলের সঙ্গে তাঁর যাবতীয় কথাবার্তাও হয়েছিল মোবাইল ফোনে। শেষমেশ প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চ্যাটার্জিহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তদন্তে নেমে হাওড়া সাইবার ক্রাইম থানার গোয়েন্দারা ইতিপূর্বেই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এবার অসমে হানা দিয়ে অন্যতম চক্রীকে পাকড়াও করল পুলিস। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা, একাধিক ডিভাইস ও অসংখ্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি। মঙ্গলবার ধৃতকে হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিক্যাল পলিসি করিয়ে দেওয়ার নাম করে একটি চক্রের লোকজন দীর্ঘদিন ধরেই বহু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছিল। পলিসির পাশাপাশি বিভিন্ন স্কিমের লোভ দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করত তারা। সেই টাকা চলে যেতে অসমে বিভিন্ন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে। এই চক্রের ফাঁদে পা দেন চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার বাসিন্দা মানসবাবু। একটি বেসরকারি সংস্থায় ভালো পদে চাকরি করেন তিনি। মেডিক্যাল পলিসির পাশাপাশি টাকা দ্বিগুণ, তিনগুণ করার টোপ গিলে দফায় দফায় প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করেন তিনি। এরপর প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে চ্যাটার্জিহাট থানার দ্বারস্থ হন। ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় হাওড়া সিটি পুলিসের সাইবার ক্রাইম থানার গোয়েন্দাদের। এরপর বিভিন্ন সূত্র ধরে প্রথমে নিউটাউন থেকে সুশীল জানা ও প্রণবকান্তি ভূঁই নামের ওড়িশার দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বিভিন্ন ভুয়ো কল সেন্টার চালিয়ে প্রতারিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সোনারপুর থেকে শুভজিৎ গায়েন নামের আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘শুধু এরাজ্য নয়, অসমেও এই প্রতারণা চক্রের জাল ছড়িয়ে রয়েছে। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা গত সোমবার অসমের নওগাঁ জেলায় অভিযান চালান। সেখান থেকে চক্রের এক মাথাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে’। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নওগাঁওয়ের সিমলাইপাথার থেকে আব্দুর রহমান নামের ওই চক্রীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। সে বিভিন্ন সাইবার ক্যাফে থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করে চক্রের বাকিদের সাপ্লাই দিত। হাওড়া সিটি পুলিসের ওই কর্তা বলেন, ‘এই ধরনের সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা জোগাড় করে তারা এক সময় বিট কয়েনে কনভার্ট করেছে। ফলে সম্পূর্ণ টাকা উদ্ধার করাই এখন চ্যালেঞ্জের। তবে প্রতারণার এই তদন্ত
দ্রুত এগচ্ছে।’
হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘শুধু এরাজ্য নয়, অসমেও এই প্রতারণা চক্রের জাল ছড়িয়ে রয়েছে। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা গত সোমবার অসমের নওগাঁ জেলায় অভিযান চালান। সেখান থেকে চক্রের এক মাথাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে’। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নওগাঁওয়ের সিমলাইপাথার থেকে আব্দুর রহমান নামের ওই চক্রীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। সে বিভিন্ন সাইবার ক্যাফে থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করে চক্রের বাকিদের সাপ্লাই দিত। হাওড়া সিটি পুলিসের ওই কর্তা বলেন, ‘এই ধরনের সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা জোগাড় করে তারা এক সময় বিট কয়েনে কনভার্ট করেছে। ফলে সম্পূর্ণ টাকা উদ্ধার করাই এখন চ্যালেঞ্জের। তবে প্রতারণার এই তদন্ত
দ্রুত এগচ্ছে।’



