মায়ামি: ১০ গোল! তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পর দুই অংকে পৌঁছাল এমবাপের লক্ষ্যভেদের সংখ্যা। গোল্ডেন বুটের দাবিও জোরাল হল তাঁর। কাপযুদ্ধের ইতিহাসে কোনো আসরে এরচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড রয়েছে দু’বার। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সেরই জাঁ ফঁতে ১৩ গোল করেন। ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরির সান্দর ককসিস করেন ১১ গোল। ১৯৭০ সালে জার্মানির গার্ড মুলারের গোলসংখ্যা ছিল ১০। তাঁকে স্পর্শ করলেন এমবাপে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের নজিরেও এমবাপে টপকে গেলেন লায়োনেল মেসিকে। ফাইনালের আগে পর্যন্ত এলএমটেন-এর গোলসংখ্যা ২১। আর এমবাপের নামের পাশে ২২ গোল।
ফরাসি তারকা অবশ্য ব্যক্তিগত রেকর্ডের গৌরবে তৃপ্ত নন। বরং ফাইনালে উঠতে না পারার যন্ত্রণা প্রতি মুহূর্তে বিদ্ধ করে চলেছে তাঁকে। আর তা গোপনও করছেন না ফ্রান্সের অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপে চতুর্থ হওয়ার পর এমবাপে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড না হলেও ক্ষতি ছিল না, যদি ফাইনালে নামতে পারতাম!’ পরপর দুটো বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন তিনি। রাশিয়ায় আট বছর আগে ফ্রান্সই হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। তারপর কাতারে তাঁর অবিশ্বাস্য লড়াই সত্ত্বেও টাই-ব্রেকারে আর্জেন্তিনার কাছে বশ মানে দিদিয়ের দেশঁ ব্রিগেড। এবার ফ্রান্স যেভাবে খেলছিল তাতে কাপ জয়ের বড়ো দাবিদার মানা হচ্ছিল তাদের। ভাবাই যায়নি, সেমি-ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে সিলেবাস বহির্ভুত প্রশ্নের মুখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাবে জিদানের উত্তরসূরিরা।
তৃতীয় স্থান অর্জনের খেলাতেও তো প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড দেয় চার গোল। ফরাসিদের তখন একেবারেই ছন্নছাড়া লাগছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপের সুবাদে লড়াইয়ে ফেরে তারা। যদিও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জিতে যায় ৬-৪ ব্যবধানে। পরাজয়ের হতাশাই সঙ্গী হয় ফ্রান্সের। এমবাপের কথায়, ‘এই ম্যাচটার দুটো অর্ধ একেবারেই আলাদা। প্রথমার্ধে আমরা ফ্রান্সের জার্সির প্রতি সুবিচার করতে পারিনি। নির্বোধের মতো খেলেছি। তবে আমরাও মানুষ। ভুল হতেই পারে। এটা অবশ্য ঠিক যে, ইংল্যান্ডের দাপটের সামনে আমরা হতবাক হয়ে পড়েছিলাম। নিজেদের সহজাত খেলা মেলে ধরতে পারিনি। ওরা অবশ্য আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়।’
দেশঁর বিদায়ী ম্যাচে জয় উপহার দিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন ফুটবলাররা। কিন্তু তা হয়নি। এমবাপের কাছে যা লজ্জা হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘প্রথমার্ধে আমরা একেবারেই জঘন্য খেলেছি। মনে হচ্ছিল, কোচের সম্মান ভুলুন্ঠিত করেছি। এমনটা চাইনি একেবারেই। শেষ ম্যাচটা জিততে না পারা অবশ্য দেশঁর লিগ্যাসিকে কালিমালিপ্ত করতে পারবে না কোনোভাবেই।’ শুধুমাত্র সেমি-ফাইনাল ছাড়া বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই গোল পেয়েছেন এমবাপে। মজার ব্যাপার হল, তাঁর খেলা আগের দু’টি আসরের সেমি-ফাইনালেও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। তাতে অবশ্য তাঁর কৃতিত্ব খাটো হওয়ার নয়। বরং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পর এমবাপের আঙুল উঁচিয়ে সেলিব্রেশন মনে করাল ব্রাজিলের রোনাল্ডো নাজারিওকে।