ছোট থেকেই গণিতে তুখোড়। অল্প বয়সেই অসাধারণ সাফল্য। গণিতের একটা জটিল ধাঁধার সমাধান। দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে বিশ্বের তাবড় গণিতবিদরা এই সমস্যার কুলকিনারা পাচ্ছিলেন না। কিন্তু কলকাতায় বসে বীজগণিতের সেই গভীর জ্যামিতিক রহস্যর জাল ভেদ করেন নীনা গুপ্তা। এই সমস্যার নাম ‘জারিস্কি ক্যানসেলেশন প্রবলেম’। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন এই তরুণী গণিতজ্ঞ। ২০২১ সালে তিনি পেয়েছেন রামানুজন পুরস্কার। তা বিশ্বের গণিত ক্ষেত্রে অন্যতম সম্মানজনক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও বটে! বরানগরের ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই)-এর এই অধ্যাপিকার জন্ম গুজরাতে। ১৯৮৪ সালে। সেখানেই দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা। তারপর বাবা-মা’র সঙ্গে চলে আসেন কলকাতায়। ডানলপ ব্রিজের কাছে খালসা মডেল সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা। বেথুন কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর ক্যাম্পাসিংয়ে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু উচ্চশিক্ষার টানে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন নীনা। এরপর আইএসআই থেকে পড়াশোনা। স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করেন তিনি। তারপর সেখানেই অধ্যাপিকা নিযুক্ত হন। পাশাপাশি গবেষণায় ডুব দেন গণিতের গভীরে। বিশ্বের প্রথম সারির গণিত সংস্থাগুলির স্বীকৃতি মেলে। ২০১৯ সালে শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কারে ভূষিত করা হয় তাঁকে। এই পুরস্কার প্রাপকদের তালিকায় তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। গণিতের মতো বিষয়ে নীনার এই অসাধারণ সাফল্য একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গণিতের প্রতি ভালোবাসা আর একাগ্র সাধনাই তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি। ছোট থেকে গণিতের প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করতেন তিনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংখ্যা নিয়ে খেলা করতে পারতেন। এব্যাপারে তাঁর কোনও একঘেয়েমি নেই। আর গণিতের কোনও সমস্যার সমাধানেই আনন্দ খুঁজে পেতেন তিনি। তাঁর সাফল্য অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই অনুপ্রেরণা।



