নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে একযোগে মাঠে নামল রাজ্যের নিয়োগ সংস্থাগুলি। একই দিনে সাংবাদিক সম্মেলন করে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা জানানো হল পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পক্ষ থেকে। এই স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের তরফে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে লক্ষাধিক শূন্যপদ পূরণ হতে চলেছে।
৩০ জুলাই নিয়োগকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিন আটকে থাকা পরীক্ষাগুলি স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত নেওয়া এবং পরীক্ষার ফল প্রকাশের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এদিন পিএসসি’র তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ৫৪টি দপ্তরের থেকে ২ হাজার ৪৯০টি গ্রুপ ‘এ’ শূন্যপদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বিচারক, রাজ্য প্রশাসনিক পরিষেবা, পুলিশ, নিরীক্ষণ ও হিসাব পরিষেবা, আইন পরিষেবা সহ বিভিন্ন পদ। এ ছাড়াও গ্রুপ ‘বি’তে ২ হাজার ৮৪৮টি শূন্যপদ এবং গ্রুপ ‘সি’তে আরও ১২ হাজার ৩৭৬টি শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া চলছে। তার জন্য নেওয়া পরীক্ষায় ১২ লক্ষ ৬৫ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল প্রকাশ এখনও বাকি। বিভিন্ন পর্যায়ে এই পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে পিএসসি’র তরফে। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরে আরো ৮ হাজার ৬টি শূন্যপদে নিয়োগ হবে। শীঘ্রই তার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পিএসসি। এক্ষেত্রে অর্থদপ্তরের ১৬ মে’র নির্দেশ অনুযায়ী ঘোষিত বয়সের অতিরিক্ত ছাড়ের সুবিধাও দেওয়া হবে। তবে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের ৭ আগস্টের নির্দেশ অনুযায়ী সংশোধিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হলেও পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না। সেক্ষেত্রে সংরক্ষিত অনগ্রসর শ্রেণির পদগুলিতে পরবর্তীতে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে ফল প্রকাশের সময় সুনিশ্চিত করা হবে। পিএসসি চেয়ারম্যান অনিল ভার্মা জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সুরক্ষিত ও দ্রুত করতে প্রযুক্তির সর্বাধিক ব্যবহার করা হবে। এবং পরীক্ষা হবে ইউপিএসসি’র আদলে।
ওয়েস্টবেঙ্গল পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের তরফেও ১৭ হাজার শূন্যপদ পূরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুজোর আগেই ১ হাজার ৪৪০ সাব ইনস্পেক্টর এবং ১৪ হাজার ২৬৩ কনস্টেবল পদে নিয়োগ হবে। বোর্ড চেয়ারম্যান নীরজকুমার সিং জানান, ‘স্বচ্ছতার লক্ষ্যে সমস্ত নথি সংরক্ষণ হবে।’ আবার সমস্ত অভিযোগ মিটিয়ে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার ঘোষণা করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশনও। তাদের মাধ্যমেই ৪৬ হাজার ১১টি শূন্যপদ পুরণ হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শূন্যপদ পূরণের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি শীঘ্র প্রকাশ করবে স্টাফ সিলেকশন কমিশনও।