


হায়দরাবাদ: সপ্তাহের প্রথম দিন। সাঙ্গারেড্ডি জেলার পাতানচেরিতে সিগাছি ফার্মা প্ল্যান্টে সকালের শিফ্টে তখন কাজ চলছিল জোরকদমে। হঠাৎই রিঅ্যাক্টরে বিস্ফোরণ। এরপরেই আগুন লেগে যায় কারখানায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছ’জনের। পরে আরও ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় জখম ৩৪ জন। বিস্ফোরণ এতটাই জোরাল ছিল যে, অনেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে ছিটকে গিয়ে পড়েন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান তেলেঙ্গানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী দামোদর রাজা নরসিমা। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৪ জনের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।’ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতের পরিবারবর্গকে দু’লক্ষ টাকা এবং জখমদের ৫০ হাজার টাকা করে এককালীন সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
সাঙ্গারেড্ডি জেলার পাসামিলারম শিল্প তালুকেই রয়েছে সিগাছির ওষুধ কারখানা। সোমবার সকাল ৯টা ২৮ থেকে ৯টা ৩৫ নাগাদ সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিসের আইজি (মাল্টিজোন) ভি সত্যনারায়ণ জানান, বিস্ফোরণের সময় ওই কারখানায় ১৫০ জন কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৯০ জনই হাজির ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়। সঙ্গে সঙ্গে দমকলে খবর দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। আগুন যাতে আর ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য পুলিস পুরো এলাকা ঘিরে দেয়। উদ্ধারের কাজে এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফের কর্মীদের পাশাপাশি হাত লাগান স্থানীয়রাও। অবশেষে দমকলকর্মীদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ওষুধ কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি। জখমদের উপযুক্ত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেন রেবন্ত। আর কোনও কর্মী ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চাপা পড়ে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলেন। ঘটনা নিয়ে ওষুধ সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে কারখানায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা মজুত ছিল কি না এবং কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।