Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ল্যাবেই তৈরি হচ্ছে মঙ্গলের ‘মাটি’! শুভাংশু শুক্লার সঙ্গে গবেষণা আইসার কলকাতার বাঙালি বিজ্ঞানীর

ভারতের মঙ্গল অভিযান সফল করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় নাম লেখালেন বাঙালি বিজ্ঞানী পুণ্যশ্লোক ভাদুড়ি। ভারতীয় নভশ্চর শুভাংশু শুক্লা সহ আরও পাঁচ বিজ্ঞানীর সঙ্গে গবেষণায় তিনি পৃথিবীতেই মঙ্গলের মাটির উপাদান তৈরি করে ফেলেছেন।

ল্যাবেই তৈরি হচ্ছে মঙ্গলের ‘মাটি’! শুভাংশু শুক্লার  সঙ্গে গবেষণা আইসার কলকাতার বাঙালি বিজ্ঞানীর
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: ভারতের মঙ্গল অভিযান সফল করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় নাম লেখালেন বাঙালি বিজ্ঞানী পুণ্যশ্লোক ভাদুড়ি। ভারতীয় নভশ্চর শুভাংশু শুক্লা সহ আরও পাঁচ বিজ্ঞানীর সঙ্গে গবেষণায় তিনি পৃথিবীতেই মঙ্গলের মাটির উপাদান তৈরি করে ফেলেছেন। এটাকে বলা হয় ‘মার্স ব্রিক’। মহাকাশযানের মডিউল এবং মঙ্গলে নামা অন্যান্য যান এই উপাদানে তৈরি হলে তা সেই গ্রহের জন্য উপযোগী হবে বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের। কারণ, এটি হালকা এবং মঙ্গলের আবহাওয়ার জন্য উপযোগী। একই সঙ্গে উচ্চ তাপও সহ্য করতে পারে। এই গবেষণায় আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে, মঙ্গলে প্রাণ ছিল।

Advertisement

আইসার কলকাতার জীববিজ্ঞানী পুণ্যশ্লোকবাবু জানান, মঙ্গলে পারক্লোরেট নামে ক্লোরিনের একটি যৌগের সন্ধান মিলেছে। সেটা মার্শিয়ান রিগোলিথ বা মঙ্গলের মাটির উপরিভাগে মেলা ধুলোর মতো জিনিসটির প্রধান উপাদান। সেটাই শক্ত হয়ে তৈরি করে মার্শিয়ান ব্রিক বা ইট। গবেষণাগারে ম্যাগনেশিয়াম পারক্লোরেটের সঙ্গে বিশেষ কিছু জীবাণু ব্যবহার করে সেই মার্শিয়ান ব্রিক তৈরি করা গিয়েছে। পারক্লোরেটে সেই জীবাণুগুলি বিক্রিয়া করে ক্যালশিয়াম দিয়ে সেটি জমাতে সক্ষম হয়েছে। এরপরে কিছু জীবাণু সক্ষম হয়েছে বায়োসিমেন্টেশন ঘটাতে। এর ফলে সেগুলি আরো কঠিন, মার্শিয়ান ব্রিকে পরিণত হচ্ছে। এভাবে ল্যাবরেটরিতে তৈরি মার্শিয়ান ব্রিক যদি মঙ্গলে নামা যানগুলির উপরিভাগের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা অন্য ধাতুর চেয়ে হালকা এবং টেকসই হবে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। একই সঙ্গে, পারক্লোরেটে জীবাণুগুলির এই বিক্রিয়া প্রমাণ করে, এরকমই কোনো ব্যাকটেরিয়া বিক্রিয়া ঘটিয়ে মঙ্গলের মাটি তৈরি করেছিল। ফলে, ঘুরিয়ে প্রমাণ করা যায়, মঙ্গলে একসময় প্রাণ ছিল।
এই গবেষণায় ইসরোর তরফে যোগ দিয়েছেন শুভাংশু শুক্লা। এই গবেষণার অন্যতম বিজ্ঞানী বেঙ্গালুরু আইআইএসসির অলোককুমার আবার শুভাংশুর শিক্ষক। এছাড়া দলে রয়েছেন প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিন গুপ্তা, আইআইএসসি এবং ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট স্বাতী দুবে এবং আইআইএসসির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক রশ্মি দীক্ষিত। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে প্লস ওয়ান নামে একটি ওপেন অ্যাক্সেস জার্নালে।
মঙ্গলে নামা নাসার সবকটি মহাকাশযানের অবতরণ ক্ষেত্র, সেখানে প্রাপ্ত পারক্লোরেটের পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মঙ্গলের মাটিতে সেই যৌগের পরিমাণ যথেষ্ট। এই যৌগ পৃথিবীর জীবজগতের পক্ষে ব্যাপক ক্ষতিকর। তবে, মঙ্গলের সফল অভিযানে এই ক্ষতিকর যৌগই আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেবে বলে আশা বিজ্ঞানীদের।

সম্পর্কিত সংবাদ