অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: শিক্ষক শিক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন সরকারের কাছে উন্নয়নের অনেক আশা নিয়ে বসে আছে শিক্ষামহল। সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণ কেন্দ্র বা পিটিটিআইগুলির বেহাল দশা। এমনই অবস্থা যে সেখানকার শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড না কেটেই বেতন দেওয়া চলছে তিন বছরের বেশি সময় ধরে। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, এই ব্যবস্থা শুধু অনৈতিকই নয়, বেআইনিও বটে। তবে প্রশাসনিক জটিলতা, আধিকারিকদের একাংশের ঢিলেমিতে ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
২০২২ সালে পিটিটিআইগুলি স্টেট কাউন্সিল অব এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (এসসিইআরটি) হাতে আসে। এগুলির অনুমোদন, পড়ুয়া ভর্তি, পরীক্ষা ও ফলপ্রকাশের দায়িত্ব অবশ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের হাতে। এই মুহূর্তে ১৫টি সরকার পোষিত এবং ৬টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত পিটিটিআই রয়েছে। বাকি ১৯টি সরাসরি সরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে এগুলিতে সেই সমস্যা নেই। মূল সমস্যা হল সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত পিটিটিআইগুলির। ডিআইদের হাত থেকে ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অথরিটি (বেতন প্রদান ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষমতা) অধ্যক্ষদের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর তা করতে গিয়েই নানা জটিলতায় প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করা যায়নি। বর্তমানে সেটি এজি অফিসে আটকে রয়েছে বলে খবর। সেখান থেকে কলেজগুলির পুরানো নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। তা দিতে গিয়েই হিমশিম খেতে হচ্ছে এসসিইআরটি-কে। তবে তাদের আশা, শীঘ্রই এই শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু হবে।
বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যাও তলানিতে। এক যুগ ধরে নিয়োগ পদ্ধতি পরিবর্তন হয়নি। তাই চাইলেই নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি যে, একাধিক কলেজে একজনও শিক্ষক নেই। স্থায়ী অধ্যক্ষ রয়েছেন মাত্র দু’টি কলেজে। অথচ, সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা রয়েছে প্রায় চার হাজার। সেখানে সাড়ে সাত থেকে ১২ হাজার টাকা খরচে এক বছরের কোর্স ফি-তে ডিএলএড কোর্স করতে পারেন প্রার্থীরা। বেসরকারি ক্ষেত্রে সেই ফি এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা। তাই প্রাথমিকে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার জন্য দরিদ্র, মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন কলেজগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ব্যাঙের ছাতার মতো চালু থাকা বেসরকারি ডিএলএড কলেজগুলিকেও নিয়ন্ত্রণ করা হোক, চাইছেন আধিকারিকরা।