নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ‘তোকে খুন করে আমিও মরব।’ এই হুমকি যে কথার কথা ছিল না, তা কল্পনাও করতে পারেননি স্ত্রী। বুধবার সোদপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন স্বামী সুভাষ দাস। উন্মত্ত সুভাষকে স্থানীয়রা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর নিজেই নিজের গলায় ছুরি বসিয়ে দেন ওই ব্যক্তি। রোমাঞ্চে ভরা বলিউডি দৃশ্যকেও হার মানিয়েছে এই ঘটনা। ইতিমধ্যেই এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই দম্পতি সোদপুরের নাটাগড় মহেন্দ্রনগর এলাকার বাসিন্দা। মৃতা গীতা দাসের বয়স ৩৮ বছর। সুভাষ তাঁর থেকে বছর দশেকের বড়ো। বর্তমানে স্বামী কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। কেন এই ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সুভাষ দাসের আদি বাড়ি বসিরহাটের হাড়োয়া এলাকায়। তিনি পেশায় গাড়িচালক। গীতাদেবী কাশীপুর এলাকার একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। বছর সাতেক আগে তাঁদের পরিচয়। ছ’বছর আগে বাড়ির অমতেই গীতাদেবী বিয়ে করেন সুভাষকে। প্রথম দিকে তাঁরা সোদপুরে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। বিয়ের বছর খানেক পর গীতাদেবী জানতে পারেন, স্বামীর প্রথম পক্ষের স্ত্রী রয়েছে। এনিয়ে বিস্তর ঝামেলা। এক সময়ে তিনি বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে সুভাষ হাতে পায়ে ধরে গীতাদেবীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। এরমধ্যে বাড়ি বদল করে সোদপুরেই অন্য একটি বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। কিন্তু সেখানে দাম্পত্য কলহ ও মারধর চরমে উঠলে গীতাদেবী ঘোলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মানসিক দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় বছর দেড়েক আগে গীতাদেবী ফের বাপের বাড়িতে চলে আসেন। অভিযোগ, তারপর থেকেই সুভাষ গীতাদেবীকে খুনের হুমকি দিতেন।
এদিন সকাল ৯টা নাগাদ গীতাদেবী সাইকেলে চড়ে সোদপুর স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া ফিউচার গেটে আসেন। সেখানে স্ট্যান্ডে সাইকেল রেখে স্টেশনে যাচ্ছিলেন। সেই সময় সুভাষ ছুরি নিয়ে স্ত্রীকে তাড়া করেন। প্রকাশ্য রাস্তায় এলোপাথাড়ি কোপ মারলে গীতাদেবীর আর্তনাদ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সুভাষ তাঁদের দিকে রক্তমাখা ছুরি নিয়ে ধাওয়া করেন। শেষমেশ নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে দেন তিনি। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় গীতাদেবীকে জড়িয়ে ধরে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ দু’জনকে উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা গীতাদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী রাজর্ষী চক্রবর্তী বলেন, চোখের সামনে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা আগে কখনও দেখিনি। মহিলার গলা, পেট সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপ মেরে ওই ব্যক্তি নিজের গলা কেটে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। গীতাদেবীর পারিবারিক বন্ধু কাঞ্চন বসু বলেন, ‘বাড়ির অমতে গীতা বিয়ে করেছিল। খুব অত্যাচার করত লোকটা। সুভাষ বার বার বলত, গীতাকে খুন করে আত্মঘাতী হবে সে। ঘোলা থানায় অভিযোগ জানিয়েও লাভ হল না।’