


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভাটপাড়া, গারুলিয়া, নৈহাটি, হালিশহর, কাঁচরাপাড়া পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলররা যখন ইস্তফা দিচ্ছেন, কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলারদের ডেকে ভোকাল টনিক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে মমতা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ‘কাউন্সিলররা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাই পদ ছাড়বেন না। সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিয়ে যান। আর মাটি কামড়ে পড়ে থেকে লড়াই করুন।’
বস্তুত, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে, এরপর পুরসভাগুলিতেও কি গেরুয়া ঝড়? ঘটনাচক্রে এও দেখা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে তৃণমূলের হাতে থাকা পুরসভাগুলির কাউন্সিলররা পরিষেবামূলক কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা পুরসভা যাচ্ছেন না। আবার কোথাও কাউন্সিলাররা দূরত্ব তৈরি করছেন। বারাকপুর শিল্পাঞ্চল এলাকার একাধিক পুরসভায় কাউন্সিলাররা ইস্তফা পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছেন। সংকট চলছে কলকাতা পুরসভাতেও। অধিবেশন কক্ষ ‘বন্ধ থাকায়’ ক্লাব রুমে বসতে হয়েছে কাউন্সিলারদের। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার বিকেলে কালীঘাটে নিজের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলারদের বৈঠকে ডাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১১০ জনের মতো কাউন্সিলার সেখানে হাজির ছিলেন। কিন্তু জনা ২৫ পুর প্রতিনিধিকে বৈঠকে দেখা যায়নি। দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে মমতা বলেছেন, ‘কাউন্সিলাররা জন-পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রতিদিন যথেষ্ট গুরুদায়িত্ব পালন করেন। তাই কেউ ভয় পাবেন না। নিজের কাজ চালিয়ে যান। মেয়র, মেয়র পারিষদ, কাউন্সিলাররা পদ ছাড়বেন না। তাহলেই বিজেপি ঝাঁপিয়ে পড়বে। ডিসেম্বর পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার মেয়াদ আছে। ফলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করে যান।’
কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষ যেভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে, তার প্রতিবাদে আইনি পথে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। পাশাপাশি রাস্তায় নেমে কাউন্সিলারদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ফিরহাদ হাকিমকে উদ্দেশ করে মমতা বলেছেন, ‘প্রয়োজনে ডোরিনা ক্রসিং বা শহরের অন্য জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচি করুন। পুলিশ কোথাও অনুমতি না দিলে কলকাতা পুরসভার ভিতরে প্রতিবাদ কর্মসূচি করুন।’ পাশাপাশি এদিন কাউন্সিলারদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়টি আরও একবার গাইডলাইন আকারে দিয়ে দিয়েছেন মমতা। যেখানে তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, ‘সাধারণ মানুষকে পুর-পরিষেবা দিন। আর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান।’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংক্রান্ত পুরসভার যে নোটিস সামনে এসেছে, সেই বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। যেখানে মমতা বলেন, ‘হঠাৎ করে তো আর বাড়ি ভেঙে দেওয়া যায় না! আইন মোতাবেক তো কাজ করতে হবে।’ পরে অভিষেকও জানান, ‘আমার বাড়ির কোন অংশটির নির্মাণ অবৈধ, সেটা পুরসভা আগে মাপ নিয়ে জানাক। তারপর এবিষয়ে উত্তর দেব।’