নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট: বসিরহাট উত্তর বিধানসভার ব্রহ্মানন্দ বিদ্যাভবন স্কুলমাঠ শুক্রবার দুপুর যেন একেবারে জনজোয়ারের রূপ নিল। রাজনৈতিক সভা নয়, যেন উৎসব—এমনই আবহে প্রার্থী তৌসিফুর রহমানের সমর্থনে তৃণমূলের সভায় হাজির হন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আসার আগেই মাঠ উপচে পড়ে মানুষে। গ্রাম থেকে গ্রামান্তর পেরিয়ে ভিড় জমায় হাজার হাজার সমর্থক। এদিন মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট দক্ষিণের প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র ও বাদুড়িয়ার প্রার্থী বুরহানুল মুকাদ্দিম ওরফে লিটন এবং জেলা নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্যের মধ্যেই বারবার স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ ‘দিদি, দিদি’ ধ্বনিতে কার্যত কেঁপে ওঠে সভাস্থল। সব কিছুকে ছাপিয়ে যায় নেত্রীর আগমন। আকাশে হেলিকপ্টার দেখা যেতেই জনতার মধ্যে উচ্ছ্বাস যেন বিস্ফারিত হয়। হাজার হাজার হাত একসঙ্গে আকাশের দিকে উঠে যায়। শুরু হয় উলুধ্বনি, হাততালি, শিস। মহিলা সমর্থকদের আবেগ ছিল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। কেউ আঁচল নেড়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন, কেউ আবার মোবাইলে সেই মুহূর্ত ধরে রাখতে ব্যস্ত। পুরুষ সমর্থকরাও পিছিয়ে নেই। ঢাক, বাঁশি আর স্লোগানে একেবারে মেলার আবহ।
মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখতেই জনতার সঙ্গে যেন সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন মমতা। তাঁর প্রতিটি বক্তব্যে হাততালির সঙ্গে শোনা যায় সমর্থনের গর্জন। ভাষণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া প্রসঙ্গে সরব হন তিনি। জননেত্রী অভিযোগ করেন, এসআইআরের নাম করে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হিন্দু-মুসলিম সবাই আছেন। এটা শুধু রাজনৈতিক নয়, গণতন্ত্রের উপর আঘাত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এই বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা হবে। ইভিএম নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটের দিন থেকে গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কোনো মেশিন খারাপ হলে নতুন মেশিনের দাবি জানাতে হবে এবং গণনার সময় কেউ যেন কেন্দ্র ছেড়ে না যান। এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বহিরাগত’ ইস্যুতেও তোপ দাগেন তিনি। অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে লোক এনে ভোটে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কোনোভাবেই অসমের মতো ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেব না। আর মাঠে তখন উত্তেজনার চরম মুহূর্ত। প্রতিটি বাক্যের শেষে হাততালি, স্লোগানের ঢেউ। বাংলা নিজের মেয়েকেই চায় এই স্লোগানে গর্জে ওঠে চারদিক। সব মিলিয়ে, বসিরহাট উত্তরের এই সভা শুধু রাজনৈতিক প্রচার নয়, এক আবেগঘন শক্তিপ্রদর্শন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নেত্রীর আক্রমণাত্মক ভাষণ এবং সংগঠনের জোর আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূলের পক্ষে তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। লিটন বলেন, নেত্রীর এদিনের বার্তা আমাদের বাড়তি অক্সিজেন দিল।