


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর ছাড়ার আগে নবীন-প্রবীণদের মিলিয়ে দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার গড়বেতার সভা মঞ্চের ছিলেন দাঁতন ও কেশিয়ার বিদায়ী বিধায়ক প্রবীণ বিক্রমচন্দ্র প্রধান, পরেশচন্দ্র মুর্মু, জেলা পরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ শৈবাল গিরি, ঝাড়গ্রামের প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী চূড়ামণি মাহাতরা। মঞ্চে বাংলা ও বাঙালির ‘অস্তিত্ব’ রক্ষার লড়াইয়ে সকলকে একযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার বার্তা দেন তিনি। আর সভা শেষে তিনি ১৫ মিনিট ধরে আলোচনা করেন। তাতে অভিমান ভুলে প্রবীণ ও নবীন নেতারা একযোগে কাজ করবেন বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেন ।
রবিবার বিকেলে খড়্গপুরে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন খড়্গপুর গ্রামীণের একটি হোটেলে। সোমবার তিনি দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে নারায়ণগড়, ডেবরা ও পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় জনসভা করেন। দলীয় প্রার্থী প্রতিভা মাইতির সমর্থনে বেলদা স্টেডিয়াম মাঠে সভা মঞ্চে বিদায়ী বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্টকে দেখতে না পেয়েই মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান দীনেন রায়কে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। সূর্যকান্তবাবু জানান, পারিবারিক কারণে তিনি সভায় আসতে পারবেন না। এরপরই কড়া বার্তা দেন নেত্রী। তিনি বলেন, ‘টিকিট পাননি বলে বিরোধিতা করতে হবে, এমনটা ঠিক নয়।
মঞ্চে ছিলেন না দাঁতনের বিদায়ী বিধায়ক বিক্রমচন্দ্র প্রধানও। এবার ওই কেন্দ্রে মানিক মাইতিকে দল টিকিট দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিক্রমদাকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি। বিক্রমদার সঙ্গে আমি কথা বলে নেব। উনি অনেক কাজ করেছেন। অবশ্য টিকিট না পেলেও মঞ্চে হাজির ছিলেন কেশিয়াড়ির বিদায়ী বিধায়ক পরেশচন্দ্র মুর্মু। সূর্যকান্তবাবু ও বিক্রমচন্দ্রবাবু এখনও প্রচারে না নামলেও, পরেশচন্দ্রবাবু দলীয় প্রার্থী রামজীবন মাণ্ডির সমর্থনে প্রচার করেছেন।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর শেষ সভা ছিল ডেবরার বালিচকে। মঞ্চে থাকা ডেবরার প্রাক্তন বিধায়ক রাধাকান্ত মাইতির উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি এখানে সবার থেকে সিনিয়র। ডেবরার সভা শেষেই ‘অভিমানী’ বিক্রমবাবু, পরেশচন্দ্রবাবু ও সূর্যকান্তবাবুদের ডাক পড়ে খড়্গপুরের হোটেলে। ওই দিন সন্ধ্যায় খড়্গপুর গ্রামীণের বিদায়ী বিধায়ক ও প্রার্থী দীনেনবাবু বিক্রমবাবু, ও পরেশবাবুকে নিয়ে হোটেলে হাজির হন। বাইরে থাকায় আসেননি সূর্যকান্তবাবু। হোটেলে তিন প্রবীণ সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতেই সব অভিমান ভুলে যান তাঁরা। মঙ্গলবার বিকেলে সত্তরোর্ধ্ব বিক্রমবাবু বলেন, ‘দিদি জানিয়েছেন, বিজেপির মতো চক্রান্তকারী দলের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমার কোনো অভিমান নেই। কিন্তু, আগে আমাকে সভায় ডাকা হয়নি। প্রচারেও নামতে বলেনি। মঙ্গলবার গড়বেতার সভায় দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে বক্তব্যও রাখেন বিক্রমবাবু। তিনি বলেন, দিদি বলেছিলেন, তুমি, পরেশ গড়বেতার সভায় এলে আমার ভাল লাগবে। শৈবালকেও নিয়ে যেতে বলেছিলেন।
গড়বেতার মঞ্চ থেকেই তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সকলকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। মঙ্গলবার গড়বেতার সভা শেষেও দলের প্রবীণ নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট আলোচনা করেন দলনেত্রী। দীনেনবাবু বলেন, বিজেপির মতো একটা ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নবীন-প্রবীণ-ছাত্র-যুব-মহিলা সকলকে একযোগে লড়াই করতে বলেছেন তিনি। এবিষয়ে সুজয়বাবু বলেন, ‘দিদি বলেছেন, এটা বড় লড়াই। সবাইকে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমরা দিদিকে আশ্বস্ত করেছি।
গড়বেতার তৃণমূল প্রার্থী উত্তরাদেবী বলেন, এত ব্যস্ততার মাঝেও দিদি নবীন-প্রবীণদের মিলিয়ে দিয়েছেন। আমরা খুব খুশি। গড়বেতা সহ পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫টি আসনই আমরা দিদিকে উপহার দেব বলে অঙ্গীকার করেছি।